ঈদ-পূজা নির্বিঘ্ন করতে
পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতি
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:০৬
আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা এবং শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উত্সবমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুলিশ সদর দফতর, এসবি, সিআইডি, সব পুলিশ কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজি, র্যাব, ডিজিএফআই, এনএসআই, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আইজিপি পবিত্র ঈদ-উল-আযহা এবং শারদীয় দুর্গাপূজা এ দুটি প্রধান ধর্মীয় উত্সব জনগণ যাতে শান্তিপূর্ণ, আনন্দ ও উত্সবমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে পারে তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করে কোন অশুভ চক্র যাতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে সেজন্য সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, কোরবানির পশু পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখা এবং চামড়া যাতে পাচার না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উত্সব দুর্গাপূজা এ বছর ২৮ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে। পুুলিশ বাহিনী অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের সকল পূজামণ্ডপে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদান করবে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মহানগরসহ দেশের সকল পূজামণ্ডপে সন্দেহভাজনদের দেহ তল্লাশি, অজ্ঞানপার্টি/পকেটমারদের অপতত্পরতা রোধে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কোন ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কেউ যাতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বৈঠকে ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রোধ করাসহ রেলওয়ে স্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে পকেটমার ও অজ্ঞানপার্টির অপতত্পরতা রোধে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। কোরবানির পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি এবং মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশ বিশেষ তত্পর থাকবে। পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপদে আর্থিক লেনদেন এবং জাল নোট শনাক্ত করার ক্ষেত্রে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।