পর্যটনের জন্য পিরোজপুরও সম্ভাবনাময়
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:১৬
দক্ষিণাঞ্চলের জেলা শহর পিরোজপুর ভ্রমণের জন্য আকর্ষণীয় জায়গা। এই জেলার ভাণ্ডারিয়ায় গেলে চোখে পড়ে কত না শ্যামল গাঁও, কত না বাঁকা পথ। কচা, বলেশ্বর, সন্ধ্যা— নদীগুলো বয়ে গেছে এই জেলার মধ্য দিয়ে। পিরোজপুরের পশ্চিমে বলেশ্বর, পূর্বে রয়েছে বিশাল কচা নদী। নৌকো নিয়ে দূর অজানা গাঁয়ে বেড়ানো যায় এই পিরোজপুরে এলে। ১৮৫৯ সালে স্থাপিত মহকুমা শহর পিরোজপুর ১৯৮৪ সালে জেলা শহরের মর্যাদা পায়। এখানকার রায়েরকাঠি রাজাদের স্মৃতি জড়িয়ে আছে শহরের বিভিন্ন স্থানে এবং রায়েরকাঠিতে। মন্দির, মঠ, গার্লস স্কুলের পুকুর ঘাট, প্রান্তর, মহিলা কলেজের অভ্যন্তরের মাঠ, ধ্বংসাবশেষ ভবন স্মরণ করিয়ে দেয় রাজাদের স্মৃতি। পাদ্রী বাড়ি নেই, তবে সেই স্মৃতি তো ভোলার নয়। ৫০-৬০ বছর পরে সেদিনের কিশোর যিনি আজ বৃদ্ধ তিনি তো খুঁজবেন মাখন লাল বোসের দ্বিতল বাড়ি, নকুল বিশ্বাসের দ্বিতল বাড়ি। দূর থেকে এই দুই বাড়ি এখনও দেখা যায়। বসন্ত পুল স্মরণ করিয়ে দেবে বসন্ত কুমার দাস গুপ্তের কথা। এই পুলের নিচ থেকে একেবেঁকে খালটি বয়ে গেছে দামোদর খালের দিকে। দামোদর খালের উত্তরে রাজাদের সৃষ্টি রাজগঞ্জ হাট, যা এখন রাজারহাট। এই রাজারহাট ঘুরে দেখায় আছে আনন্দ। রামকৃষ্ণ মিশন, মন্দির, সোহরাওয়ার্দী কলেজ হয়ে আঁকাবাঁকা পথ চলে গেছে নাজিরপুরের দিকে। পিরোজপুরে আরো দর্শনীয় খান বাহাদুর সৈয়দ আফজালের বাড়ি, ঐতিহ্যবাহী পিরোজপুর সরকারি বালক বিদ্যালয়, বলেশ্বর সেতু, পাড়েরহাট, চরখালি, ইন্দুরকানি, স্বরূপকাঠি। পাড়েরহাট হয়ে নদীপথে ভাণ্ডারিয়া যাওয়ার পথে শুধুই চোখে পড়ে সবুজের ছোঁয়া। সবুজ-শ্যামলের এমন শোভা কি আর সহজে মেলে? তাই পিরোজপুরেও গড়ে উঠতে পারে পর্যটন কেন্দ্র। এ ব্যাপারে পর্যটন করপোরেশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
লিয়াকত হোসেন খোকন, রূপনগর, ঢাকা