বিসিবি নির্বাচন ১০ অক্টোবর
অবশেষে শুরু নির্বাচনী তোড়জোড়
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৩১
দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে থাকার পর হঠাত্ গত পরশু বুধবার থেকে দারুণ গতি পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনী প্রক্রিয়া। বুধবারই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) চেয়ারম্যান নির্বাচন কমিশন অনুমোদন করে দিয়েছেন। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিসিবি জরুরি সভায় কাউন্সিলরদের তালিকা অনুমোদন করে পাঠিয়ে দেয়া হয় এনএসসিতে। আর এনএসসি গতকালই সরকারি প্রজ্ঞাপন দিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে দিয়েছে। এই তফসিল অনুযায়ী আগামী ১০ অক্টোবর এনএসসি টাওয়ারের ছয় তলার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে বিসিবির বহুল আলোচিত নির্বাচন।
আইসিসির নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচিত সভাপতির বিধান রেখে সংশোধিত গঠনতন্ত্রে এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিছু সংশোধনী নিয়ে এখনও আদালতে এই গঠনতন্ত্র সংক্রান্ত মামলা চলছে। কিন্তু উচ্চ আদালতের বিশেষ নির্দেশনায় হতে যাচ্ছে এই নির্বাচন। যদিও এখনও নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কমতি নেই। কারণ ইতিমধ্যে বিভিন্ন ক্লাব, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেই জানা গেছে।
এসব জেনেই কাল সভায় বসেছিলেন বিসিবির এডহক কমিটির সদস্যরা। তারা আপাতত যে কাউন্সিলরদের নাম নির্ধারিত ফর্মে পেয়েছেন, তাই খসড়া আকারে এনএসসির কাছে জানিয়ে দিয়েছেন। গতকাল সভা শেষে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিসিবি জানালো তারা তিন ক্যাটাগরিতে মোট ১৭২ জন কাউন্সিলরের নাম পাঠাতে পেরেছেন। শুধুমাত্র বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং মেহেরপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর পাওয়া যায়নি। বিসিবি থেকে বলা হয়েছে, এ দু’ জায়গাতেই নিয়ম অনুসরণ করে ফর্ম পাঠানো হয়েছিল। এই কাউন্সিলরশিপ নিয়ে অনেক আপত্তি থাকলেও সেটাই আপাতত খসড়া আকারে আজ ২৭ অক্টোবর প্রকাশ করতে যাচ্ছে এনএসসি। গতকাল ঘোষিত তফসিলে এটাই এনএসসির নির্বাচনমুখী প্রথম পদক্ষেপ। এনএসসির ওয়েবসাইট ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের নোটিস বোর্ডে এই তালিকা ঝোলানো হবে।
২৯ সেপ্টেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে এই খসড়া ভোটার তালিকার ওপর আপত্তি গ্রহণ ও শুনানি করা হবে। পরদিনই স্থায়ী ভোটার তালিকা বা কাউন্সিলর তালিকা প্রকাশ করবে এনএসসি। এরপরদিন ১ অক্টোবর রিটার্নিং অফিসার, মানে এনএসসির উপ-পরিচালকের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। অফেরতযোগ্য ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে কাউন্সিলররা কিনতে পারবেন এই মনোনয়নপত্র।
৩ অক্টোবর মনোনয়নপত্র দাখিল, ৫ অক্টোবর মনোনয়নপত্র বাছাই ও প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। পরদিন প্রার্থীদের কারো ব্যাপারে আপত্তি থাকলে তার শুনানি হবে। ৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন প্রার্থীরা। একই দিনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও ব্যালট নম্বর প্রকাশ করা হবে।
সবশেষে ১০ অক্টোবর এনএসসি টাওয়ারে অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। রীতি অনুসারে ওই দিনই ফল প্রকাশ করে দেবে এনএসসি।
এখন দেখার বিষয় সেই পর্যন্ত সব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় কি না!