রানা প্লাজার আহত শ্রমিকদের জন্য প্রস্তুত কৃত্রিম পা

পায়ের মাপ নেয়া হয়েছে, তৈরি হয়েছে কৃত্রিম পা। রেহানা সেই পা পরে দু’পাশে রড ধরে হেঁটেও দেখেছে। এখন সেই পায়ের জন্য অপেক্ষা। পা দুটো যখন খুলে নেয়া হল তখন প্রশ্ন করলাম এই পা দিয়ে হাঁটতে পারবেন মনে হয়? রেহানা বলেন, হাঁটতে না পারি, দুই পা দিয়া খাড়াইতে তো পারুম। এমনই আশায় বুক বেঁধেছেন রানা প্লাজাসহ বিভিন্ন সময় আহত প্রায় ১০৭জন। যাদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে থাই সরকার। আর থাই সরকারকে কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে সেই দেশের রাজপরিবার নিয়ন্ত্রিত ‘প্রেথেসিস’ ফাউন্ডেশন। গতকাল নগরীর আগারগাঁও-এ জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান-নিটোর গিয়ে দেখা গেল কৃক্রিম পা পরে মহড়া দেয়ায় ব্যস্ত তারা। এসময় সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময়ের আয়োজন করে নিটোর। স্বাস্থ্য সচিব এম এম নিয়াজ উদ্দিন এবং নিটোর পরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার আব্দুল আওয়াল রিজভী এই কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী থাইল্যান্ড সফরকালে সেদেশের প্রধানমন্ত্রীকে রানা প্লাজায় আহতদের কৃত্রিম পা দানের আহবান করেন। তারই ফলশ্রুতিতে সেদেশের ৬৪টি জনের একটি টিম গত ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসে। এদের মধ্যে আছেন চিকিত্সক ও টেকনেশিয়ান। এই দলের বেশ কয়েকজন তাদের কৃত্রিম পায়ের উপর ভর করে এসেছেন কৃত্রিম পা দিতে। তাদেরই একজন বলেন, এরা এদের দৈনন্দিন জীবনে আগের মতো না হলেও ফিরে আসতে পারবেন। কৃত্রিম পা নিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে শিল্পীকে পা পরানো দেখলে কারোই এ বিষয় সন্দেহ থাকবে না। রানা প্লাজার ৩য় তলায় স্টাইল গ্রুপে কাজ করতেন শিল্পী। দুর্ঘটনায় তার বা পা কেটে ফেলতে হয়। ডান পায়েও তেমন শক্তি পান না। তবে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, সঠিক চিকিত্সা হলে ডান পা ভাল হবে। স্বামী বিপ্লব শেখ আসেন শিল্পীকে নিয়ে। এই দম্পতির সাত বছরের একটি মেয়ে আছে। শিল্পী বলেন, কৃত্রিম পা দিয়ে হাঁটতে তার কোন অসুবিধা হয়নি। স্বাস্থ্য সচিব এম এম নিয়াজ উদ্দিন বলেন হাঁটুর ওপর থেকে এবং হাঁটুর নিচে এই দুই রকমের কৃত্রিম পা তারা দিচ্ছেন সম্পূর্ণ বিনা পয়সায়। এই সকল পা নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে দেড় লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো। কার পা কেমন হচ্ছে আরও কতটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেয়া যায় এই কয়দিন চলছে সেই মহড়া। নিটোর পরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার আব্দুল আওয়াল রিজভী বলেন, কিছুদিন পর এই কৃত্রিম পায়ে যদি কোন সমস্যা দেখা যায় তা নিটোরই সারাতে পারবে। আর এই ক্ষেত্রে থাই সরকার একটি ট্রেনিংএরও সুবিধা দিচ্ছে বিনামূল্যে। অচিরেই বাংলাদেশের একটি টিম থাইল্যান্ডে এই বিষয় প্রশিক্ষণ নিতে যাবে। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কৃত্রিম পা প্রদান করা হবে ২৮ সেপ্টেম্বর।