সড়ক দুর্ঘটনারোধে চাই কঠোর আইন

‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’ এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনা একটি সামাজিক সমস্যা। সামাজিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমরা এই সমস্যার সমাধান করতে চাই। কোনভাবেই এই সমস্যার রাজনীতিকীকরণ কাম্য নয়। আর তাই মহলবিশেষের চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে আমাদের উত্থাপিত দাবিগুলো মেনে নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গৃহীত না হলে আগামী ২২ অক্টোবর ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে’ আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে পরিবহন মালিক-শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের বৈঠকের প্রেক্ষিতে সড়ক দুর্ঘটনার হতাহতের বিষয়ে মামলা দায়ের, চালকদের লাইসেন্স নবায়ন এবং ঢাকা মহানগরীতে শুক্র ও শনিবার দিনের বেলায় চলাচল বিষয়ে পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের দাবি ও এর প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে নিরাপদ সড়কের ব্যবস্থায় সুষ্ঠু সমাধানের পরিবর্তে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে। অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের হুমকি দিয়ে পরিবহন খাত তথা দেশবাসীকে জিম্মি করে নিজেদের কায়েমী স্বার্থ জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেবার অনৈতিক প্রচেষ্টার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনাকে জাতীয় সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করতে হবে। যেমন কলেরা/বসন্ত/বার্ডফ্লুকে আমরা জাতীয় সমস্যা হিসাবে দেখে থাকি। কারণ সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন ২০ জন করে মানুষ মারা যাচ্ছে। অথচ এ নিয়ে সরকারের কোন মাথাব্যথা নেই। বিষয়টিকে সরকার রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। এটি একটি সামাজিক ব্যাপার এবং এই আন্দোলনের ফলে সবচেয়ে বেশি যদি কেউ লাভবান হয়ে থাকে তাহলে সেটা হয়েছে সরকার। একই বিষয়ে বুধবার বিকালে একই স্থানে যৌথভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে ‘সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ পরিবারবর্গ (ফুয়ারা), সাইফ ফাউন্ডেশন, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)। ওই সাংবাদিক সম্মেলনে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, সরকারের যানবাহন যেমন নিয়ন্ত্রণহীন; তেমনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কথাবার্তাও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। কখন কোথায় তারা কি কথা বলছেন, তা ভেবে-চিন্তে বলছেন না। সড়ক দুর্ঘটনাকে জাতীয় সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানান তিনি। সংসদ সদস্য তারানা হালিম বলেন, আমি কোন রাজনৈতিক আন্দোলন করছি না। শুধু মানুষকে বাঁচানোর আন্দোলন করছি। কিন্তু এদেশের মানুষ সবকিছুতে রাজনৈতিক রং দিতে পছন্দ করেন। তিনি বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের অনুষ্ঠানে অতিথিকে জিম্মি করে ধর্মঘটকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং এর তীব্র নিন্দা জানান তিনি। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, এদেশের ড্রাইভিং লাইসেন্সে এখনো ত্রুটি রয়ে গেছে। ভালো গাড়ি চালানো কোন যোগ্যতা হতে পারে না; ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে লিখিত ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা রাখার দাবি জানান তিনি। সাইফ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সামিয়া হালিম বলেন, নিজের ছেলেকে হারানোর পর চার বছর ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছি। সড়কে সবাই যেন নিরাপদ থাকতে পারেন সেজন্য কাজ করে যাচ্ছি। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ পরিবারবর্গ (ফুয়ারা) এর আহ্বায়ক ইকরাম আহমেদ এর পরিচালনায় সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট-এর মারুফ হাসান, মডার্ন ক্লাবের সভাপতি হারুন আশরাফ, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম এর সভাপতি হাফিজুর রহমান ময়না প্রমুখ। উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরের সাথে পরিবহন মালিক-শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন এবং তাদের নেতা নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বৈঠকের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন মামলা দায়ের, চালকদের লাইসেন্স নবায়ন এবং ঢাকা মহানগরীতে শুক্র ও শনিবার দিনের বেলায় ট্রাক চলাচল ইত্যাদি বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানান নিরাপদ সড়কের জন্যে কাজ করা সংগঠনগুলো। রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মশালা এদিকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্যোগে ‘নিরাপদ সড়ক প্রকল্প’ এর কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য গতকাল সোসাইটির প্রশিক্ষণ কক্ষে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির মহাসচিব বিএমএম মোজহারুল হক। উপস্থিত ছিলেন পিএসসি’র সদস্য ইকরাম আহমেদ, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, বিআরটিএ প্রতিনিধি, বাংলাদেশ পুলিশ হাইওয়ে রেঞ্জ, ঢাকা এবং প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ইউনিট সেক্রেটারি ও যুব সদস্যবৃন্দ।