কাপড়ের রঙ দিয়ে তৈরি আচার শপিংমলে

নারীদের সবচেয়ে বেশি পছন্দের খাবার হলো আচার জাতীয় খাদ্যসামগ্রী। না জেনেই বছরের পর বছর খেয়ে যাচ্ছেন কাপড়ের রঙ ও কেমিক্যালের সংমিশ্রণে তৈরি আচার। রাজধানীর নামিদামি শপিংমল থেকে শুরু করে এসব আচার বাজারজাত করা হয় প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মুদি দোকানে। এসব খাবার খেয়ে সাধারণ মানুষ মরণব্যাধি ক্যান্সার, কিডনি, লিভারসহ জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। গতকাল সাভারে এমন একটি আচার তৈরির কারখানার সন্ধান পায় র্যাব। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কারখানার মালিক মুফতি আব্দুল মালেক সমাজে একজন ভাল আলেম হিসাবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন যাবত কারখানা খুলে এ ধরনের বিষাক্ত আচার, সসসহ নানা ধরনের খাদ্যসামগ্রী উত্পাদন করে আসছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা জানান, বিষাক্ত আচার, সস খাওয়া আর বিষ খাওয়ার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। বিএসটিআই সূত্রে জানা যায়, রাজধানীতে এ ধরনের বিষাক্ত আচার, সসসহ খাদ্যসামগ্রী উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে শত শত। গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার পর্যন্ত এ ধরনের বিষাক্ত আচার, সসসহ খাদ্যসামগ্রী বাজারজাত চলছে। এসব খাবার খেয়ে সাধারণ মানুষ মরণব্যাধি ক্যান্সার, কিডনি, লিভারসহ জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে দানা বাধছে ঘাতক ব্যাধি। ক্যান্সার ও কিডনি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, দেশে মরণব্যাধি আশংকাজনক হারে বৃদ্ধির জন্য এসব বিষাক্ত খাদ্যসামগ্রী দায়ী। গতকাল বৃহস্পতিবার র্যাব-৪ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল আমিন সাভারে অভিযান চালিয়ে কাপড়ের কলের রঙ ও কেমিক্যালের সংমিশ্রণে ২৬ ধরনের আচার, সসসহ খাদ্য তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পান। মালিক মুফতি আব্দুল মালেককে ৪ বছরের কারাদণ্ড এবং খাদ্য পরিবেশক আব্দুল হামিদকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয় মোবাইল কোর্ট। এসময় কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ কাপড়ের কলের রঙসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক কেমিক্যাল জব্দ করা হয়। ড্রাম ভর্তি তিন হাজার কেজি বিষাক্ত আচার ও সস জব্দ করা হয়। কারখানা থেকে আটককৃতরা মোবাইল কোর্টের কাছে জানান, তারা পচা টমেটো, কুমড়াসহ নানা ধরনের পচা তরকারির সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের আকর্ষণীয় রঙ মিশিয়ে তৈরি করেন আচার ও সস। কারখানায় নেই কোন কেমিস্ট। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিষাক্ত আচার, সসসহ ২৬ ধরনের খাদ্য তৈরি করার প্রমাণ পায় মোবাইল কোর্ট। সাভার থেকে রিপোর্টার তুহিন খান জানান, গতকাল দুপুরে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় জয়নাবাড়ী গ্রামে র্যাব-৪ ও বিএসটিআই এর যৌথ অভিযানে একটি নকল সস ও আচার তৈরির কারখানা আবিষ্কার হয়েছে। এ কারখানায় দীর্ঘদিন যাবত্ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ২৬ ধরনের আচার ও সস উত্পাদন করে তা বাজারজাত করে আসছিল। র্যাব-৪ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মাদ আল-আমিনের নেতৃত্বে র্যাব-৪ এর এএসপি মো. কামরুল হাসান ও বিএসটিআই এর পরিদর্শক নিখিন রায় অভিযানে অংশ নেন। “দিদার ফুড প্রোডাক্টস্” নামক প্রতিষ্ঠানটি আমের আচার , জলপাই আচার , বরই আচার , তেঁতুল আচার , বেদানা জেল, পাইন এ্যাপল জেল, টমেটো আচার , চিলি সসসহ ২৬ ধরনের পণ্য উত্পাদন করছিল দীর্ঘদিন ধরে।