নজর কাড়ছেন পেসাররা

ধীরে হলেও ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে ভাল নৈপুণ্য দেখিয়ে নজর কাড়ছেন জাতীয় দলে খেলা এবং খেলতে পারেন এমন পেস বোলাররা। নইলে ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশে আগমন থেকে শুরু করে সর্বসাম্প্রতিক জিম্বাবুয়ে সফর পর্যন্ত জাতীয় দলের পেসারদের নৈপুণ্য ছিল হতাশাব্যঞ্জক। কেননা স্পিনারদের দুর্দান্ত পারফর্ম করে গেলেও তাদের পাশে পেসারদের ছন্নছাড়া বোলিং দেশের ক্রিকেটামোদীদের ভাবিয়ে তুলেছিল। সে তুলনায় এবারের ঢাকা লিগে পেসারদের ভাল নৈপুণ্য সামনে সুদিনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমনকি মাশরাফি বিন মুর্তজাও এবার লিগে তিন ম্যাচ খেলে সাত উইকেট পেয়েছেন। অথচ ইনজুরির কারণে মাশরাফির অনুপস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে সফরেও পেসাররা ভাল কিছু করে দেখাতে পারেনি। পেস বোলারদের এমন দুর্দিনে ফিরিয়ে আনা হয় ‘হারিয়ে যাওয়া’ সাজিদুল ইসলামকে। কিন্তু তিনিও হতাশ করেন। জিম্বাবুয়ে সফরে দলে ফিরে প্রায় বিস্মৃত রবিউল ইসলাম অবশ্য দুই টেস্টে ১৫ উইকেট নিয়ে তাক লাগিয়েছিলেন। মূলত ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে জায়গা পাওয়া জিয়াউর রহমানও মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে কিছুটা নৈপুণ্য দেখান। তারপরও গেল অতিক্রান্ত বছরে পেসারদের জন্য পরিস্থিতি খুব একটা সুখকর ছিল না। তবে সেটা এখন অনেকটাই বদলেছে লিগ শুরুর পর। কেননা লিগের চতুর্থ রাউন্ড শেষে হিসেবের খাতায় অনেক পেসারেরই ভাল নৈপুণ্য দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ইনজুরিমুক্ত থাকা ও ফর্ম বিচারে। আগামী মাসে নিউজিল্যান্ড দলের বাংলাদেশ সফরের প্রাক্কালে অনেকদিন পর ফিট হয়ে মাঠে ফিরে উইকেট পাচ্ছেন মাশরাফি। লিগে জ্বলে উঠেছেন রুবেল ও রবিউল। এর বাইরে শফিউল ইসলাম ও সাজিদুল ইসলামও আছেন। আর ২৮ জনের ক্যাম্পে ডাক পাওয়া আল-আমিন ইসলামও যে সুযোগ পেলে তা কাজে লাগাতে পারেন সেটা চলমান ঘরোয়া লিগেই দেখা যাচ্ছে। এবার লিগে চার ম্যাচে ১৪ উইকেট পেয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন আবাহনীর এই ক্রিকেটার। হঠাত্ করে পেসারদের এমন সুদিনের চেহারাটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে ঘরোয়া ক্রিকেটের কল্যাণে। চার রাউন্ড শেষে শীর্ষ উইকেটধারীদের তালিকায় প্রথম পাঁচজনই পেসার। লঙ্কান ক্রিকেটার জিহান মোবারককে বাদ দিলে চারজনই স্থানীয়। এদের মধ্যে ১৫ উইকেট নিয়ে শীর্ষে আছেন রুবেল। তার একটি হ্যাটট্রিকও আছে। ১৪ উইকেট নিয়ে পরের নামটাই হলো আল-আমিনের। ১১ উইকেট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছেন ক্রিকেট কোচিং স্কুলের (সিসিএস) বিশ্বনাথ হালদার। ৯ উইকেট নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছেন ফরহাদ রেজা। চার ম্যাচে সাত উইকেট নেয়া মাশরাফিও স্বরূপে ফিরতে শুরু করেছেন। পেসারদের এই উঠে আসার রহস্য জানতে চাইলে আল আমিন বলেন, ‘উইকেট এখন আগের থেকে অনেক বেশি স্পোর্টিং। আর দুই পাশে দুটি নতুন বল দিয়ে বোলিং করানো হয়। তাই পেসাররা অনেক সহায়তা পাচ্ছে। সেই সাথে, এখন চার গজের বাইরে মাত্র চারজন ফিল্ডার রাখা যায়। তাই পেসার আর স্পিনারদের আলাদা করে দেখার সুযোগ কম।’ এতকিছুর মধ্যেও সমস্যা যা কিছু তা হলো পেসার রবিউলকে নিয়ে। থাই ইনজুরির কারণে চলতি লিগের একটি ম্যাচে অংশ না নেয়া খেলোয়াড়টিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তার প্রসঙ্গে বিসিবি’র প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী আশাবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম ২৩ তারিখের মধ্যে ও ঠিক হয়ে যাবে। এমনিতে ওর সমস্যা অনেক কমে এসেছে। ঠিক মতো রানিং করতে পারছে। এক তারিখ (১ অক্টোবর) ফিজিও বিভব সিং চলে আসছে। ও আসলে আরও ভাল ভাবে জানা যাবে। ও (রবিউল) যাতে নিউজিল্যান্ড সিরিজে খেলতে পারে সে জন্য আমরা সব রকম চেষ্টাই করছি।’ চতুর্থ রাউন্ড শেষে শীর্ষস্থানীয় পেসাররা বোলার ক্লাব ম্যাচ উইকেট রুবেল হোসেন গাজী ট্যাংক ৪ ১৫ আল-আমিন আবাহনী ৪ ১৪ বিশ্বনাথ হালদার সিসিএস ৪ ১১ ফরহাদ রেজা প্রাইম দোলেশ্বর ৪ ৯ শফিউল ইসলাম শেখ জামাল ৪ ৮ মাশরাফি বিন মুর্তজা মোহামেডান ৩ ৭