মাদ্রিদ ‘ডার্বি’র রাতে বার্সার লক্ষ্য টানা ১২তম জয়
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৩৯
রিয়াল মাদ্রিদের মাঠেই স্বাগতিকদের হারিয়ে ১৪ বছরের জয় খরা দূর করেছিল তাদের নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। গত বছরের মে মাসে দল দুটি শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচের পর আজ শনিবার রাতে আবার একই ভেন্যুতে মুখোমুখি হচ্ছে মাদ্রিদের ক্লাব দুটি। অপরদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা একই রাতে মাঠে নামবে টানা ১২তম জয়ের লক্ষ্যে।
অ্যাতলেটিকো অবশ্য সর্বশেষ লড়াইয়ে লিগ ম্যাচে নয়, জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদকে কোপা দেল রে’র ফাইনালে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছিল। কোচ দিয়েগো সিমনের দলটি মাঠ ভর্তি স্বাগতিক দর্শকদের উপস্থিতিতে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হারায় রিয়ালকে। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটিতে প্রথমে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপর তখনকার রিয়াল কোচ হোসে মরিনহোকেও ডাগ আউট ছাড়তে হয়েছিল।
এরপর পেরিয়ে গেছে কয়েক মাস। পরিবর্তন এসেছে দুই দলেই। মরিনহোর পরিবর্তে ক্লাবটির দায়িত্ব নিয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। কিন্তু সিমনের নির্দেশনায় থাকা অ্যাতলেটিকো এগিয়ে চলেছে দুর্দান্ত প্রতাপে। লা লিগায় চলতি মৌসুমে ৬টি করে ম্যাচ খেলে পয়েন্ট তালিকায় রিয়ালের এই নগর প্রতিদ্বন্দ্বী তাদের থেকে কেবল দুই পয়েন্টে এগিয়ে আছে।
গত মঙ্গলবার ওসানসুনার বিপক্ষে জয়ের ফলে তারা লিগের ইতিহাসে সেরা সূচনাটাই ধরে রেখেছে। জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায় ক্লাবটি।
অ্যাতলেটিকোর ডিফেন্ডার ফিলিপ লুইস বলেন, ‘আমরা জয় লাভ করব। কারণ আমরা জানি তাদেরকে কিভাবে হারাতে হয়। এখন আমাদেরকে ওই পন্থাই অবলম্বন করতে হবে।’ নিজের দলকে রিয়ালের থেকে এগিয়ে রাখছেন এই ডিফেন্ডার, ‘আমরা জানি তারা এখনো কঠিন পরিস্থিতি পার করছে। কাপ ফাইনালে ছয় থেকে সাতটি ভাল সুযোগ পেলেও কয়েকটি মাত্র কাজে লাগাতে পেরেছে। কিন্তু আমাদের দলটি নিখুঁত। আমাদের মধ্যে সমন্বিত একটি উদ্দীপনা কাজ করছে। আমরা যদি এটি ধরে রাখতে পারি তাহলে কোন কিছুই আমাদের দমাতে পারবে না।’
ডার্বি ম্যাচেই নিজেদের মাঠে অভিষেক হচ্ছে ‘হানড্রেড মিলিয়ন ম্যান’ গ্যারেথ বেলের। গত সপ্তাহে গেটাফের সঙ্গে খেলার আগে অনুশীলনের সময় উরুর সমস্যায় পড়েছিলেন বেল। ওই ম্যাচে ৪-১ গোলে জিতেছিল রিয়াল। এলচির বিপক্ষেও মাঠে নামতে পারেননি এই ওয়েলশ তারকা।
এই ম্যাচে রিয়ালের জন্য হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন দিয়েগো কস্তা। ইতোমধ্যে লিগের ছয় ম্যাচে অংশ নিয়ে সাত গোল করে ফেলেছেন এই ব্রাজিলিয়ান। স্পেনের জাতীয় দলেও তার ডাক পড়েছে বলে গুজব রয়েছে। এজন্য তিনি স্পেনের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে চলেছেন বলেও শোনা যাচ্ছে।
রিয়াল তাদের শেষ ম্যাচে এলচের বিপক্ষে আশানুরূপ খেলতে পারেনি। তাই ডার্বিতে সফলতা পেতে হলে রিয়ালকে গত সপ্তাহের খেলা থেকে উন্নতি ঘটাতে হবে। এলচের বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে বিতর্কিত একটি পেনাল্টির গোল মান বাঁচিয়েছিল রিয়াল।
রিয়ালের কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, ‘এরকম ম্যাচ খেলে ডার্বিতে জয় পাওয়া যাবে না। আমাদেরকে আরো ভাল খেলতে হবে।’
বার্সেলোনা মাঠে নামবে রিয়াল ডার্বির আগে আলমেইরার মাঠে। লা লিগায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা এর আগের ১১টি ম্যাচে টানা জয় পেয়েছে। আজ ১২তম জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলবে কোচ জেরার্ডোর মার্টিনোর দল। চলতি মৌসুমে ছয় ম্যাচের সবকটিতে জয়ের সুবাদে কাতালানদের সংগ্রহ ১৮ পয়েন্ট।
আগের মৌসুমে বার্সেলোনা শেষ পাঁচটি ম্যাচই জিতেছিল। আর এবারের মৌসুমের টানা ছয় জয়সহ লা লিগায় খেলা সর্বশেষ ১৬টি ম্যাচে বার্সা কেবল চার পয়েন্ট খুইয়েছে। গত মঙ্গলবার ন্যু ক্যাম্পের মাঠে নেইমার, লিওনেল মেসি, সার্জিও বুসকেটস এবং মার্ক বার্তার গোলে বার্সেলোনা রিয়াল সোসিয়েদাদকে উড়িয়ে দিয়েছিল ৪-১ ব্যবধানে।
দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মেসি চলতি মৌসুমে একাই করেছেন ১০টি গোল। আর ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোস থেকে ন্যু ক্যাম্পে যোগ দেয়া নেইমারও আছেন দারুণ ফর্মে। সোসিয়েদাতের বিপক্ষে আগের ম্যাচেই নেইমার লা লিগায় বার্সার হয়ে ব্যক্তিগত প্রথম গোলটি করেন। মেসিকে দিয়ে করান আরো একটি গোল। দানি আলভেস মনে করেন তার স্বদেশী নেইমারের ন্যু ক্যাম্পে মানিয়ে নিতে কোনো সমস্যা হবে না। বার্সেলোনার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই ব্রাজিলিয়ান বলেন, ‘নেইমারের সামর্থ্য সম্পর্কে আমি আগে থেকেই জানি। আমি জানতাম বার্সেলোনায় সে ভালভাবে মানিয়ে নিতে পারবে। তার শুভ সূচনায় আমি অবাক হইনি।’
চলতি মৌসুমে কাতালানরা লা লিগায় সবক’টি ম্যাচে পূর্ণাঙ্গ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। অপর দিকে আলমেইরা কোনো ম্যাচে জয় পায়নি। তিনটি ম্যাচে ড্র করে তারা এখন লা লিগায় ১৯তম দল।
বার্সার সাথে শেষ চারবারের মুখোমুখিতে আলমেইরা হজম করেছে ১৯টি গোল। ২০১০ সালে ন্যু ক্যাম্পে স্বাগতিকরা আলমেইরাকে হারিয়েছিল ৮-০ ব্যবধানে। তাই ফ্রান্সিস জেভিয়ারের দলের বিপক্ষে লা লিগায় টানা ১২তম জয়টি তুলে নিতে খুব একটা বেগ পেতে হবে না মেসি-নেইমারদের।
মার্টিনোর দলে অবশ্য ফিটনেসের সমস্যা লেগেই আছে। জোর্ডি আলবা (উরু), জেভিয়ার ম্যাশেরানো (হ্যামস্ট্রিং), আইজ্যাক কুয়েনকা (গোড়ালি) এবং ইব্রাহিম অ্যাফালে (গোড়ালি) থাকবেন দলের বাইরে। তবে আলমেইরার বিপক্ষে মাঠে ফিরতে পারেন কার্লোস পুয়োল।
নিষেধাজ্ঞার কারণে দলের বাইরে থাকবেন ক্রিশ্চিয়ান ফার্নান্দেজ। মার্টিনোর দলের মতো ইনজুরির সমস্যায় না ভুগলেও জেভিয়ারের দলটি ‘আন্ডারডগ’ হিসেবেই বার্সার বিপক্ষে নিজেদের মাঠে খেলতে নামবে।