এশিয়া কাপ হকির ব্যর্থতা
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি চার খেলোয়াড়ের
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৩৯
জাতীয় দলের চার তারকা খেলোয়াড় রাসেল মাহমুদ জিমি, জাহিদ হোসেন, ইকবাল হাসান পিন্টু এবং কামরুজ্জামান রানা মনে করছেন এশিয়া কাপ হকির ব্যর্থতা অনুসন্ধানে সঠিক তদন্ত হচ্ছে না। সেজন্য তারা হকি ফেডারেশনের সভাপতির কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তবে চার খেলোয়াড়ই স্বীকার করেছেন তারা ভালো খেলেননি। ব্যর্থ হয়েছেন এবং সেটার জন্য অনুতপ্ত।
গতকাল বিকালে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই খেলোয়াড়রা দাবি করেন তাদের পাশাপাশি জাতীয় দলের সহকারী কোচ এবং সাবেক তারকা খেলোয়াড় মাহবুব হারুনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই খেলোয়াড়রা দাবি করেন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির দুইজন মামুনুর রশিদ এবং রফিকুল ইসলাম কামাল হচ্ছেন খেলোয়াড় সিলেকশন কমিটির সদস্য। অন্যজন বিকেএসপির কোচ। তাদের পক্ষে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব না।
জিমি, রানা, জাহিদ এবং পিন্টু জানিয়েছেন এশিয়া কাপ হকির ব্যর্থতা অনুসন্ধানে গঠিত কমিটি রিপোর্ট জমা দেয়ার আগেই সব কথা প্রকাশ করছে ফেডারেশন। অপরাধ প্রমাণের আগেই শাস্তি কী হবে সেটাও জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। সেজন্য তারা মনে করছেন তদন্তটা উদ্দেশ্যমূলক। ফেডারেশন থেকে মন্দ কথা ছড়িয়ে দিয়ে তাদের পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে। খেলোয়াড়দের মতে, এশিয়া কাপ হকিতে খেলেছে ১৮ জন। আর তদন্ত হচ্ছে চার খেলোয়াড়কে ঘিরে। এমনকি অভিযোগ প্রসঙ্গে তাদের কাছে কিছু জানতে চাওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তারা।
জিমি বলেন,‘মালয়েশিয়ায় পাকিস্তানী কোচ নাভিদ আলম আমাদেরকে বলেছেন, আমরা শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করেছি। ব্যর্থতা হলে সেটা কোচের। কিন্তু ঢাকায় এসে তিনি সুর বদলে ফেললেন, এটা রহস্যজনক কারণেই করেছেন।’ তিনি আরো বলেন,‘কোচ ওমানের ম্যাচের ব্যাপারে আমাদেরকে বলেছিলেন, ব্যাড ডে গেছে। জিমি তুমি হান্ড্রেড পারসেন্ট দিয়েছ। মালয়েশিয়ায় থাকতে তো পাকিস্তানী কোচ আমাদের খারাপ খেলার কথা বলেননি। সেখানে উনি বলেছেন সব ব্যর্থতা আমার।’
জাহিদ বলেন, ‘দলে আমরা চারজনই সিনিয়র খেলোয়াড় ছিলাম না। কৌশিক, মিমো, নিলয়, বিপ্লব, চয়নসহ আরো অনেকেই দলের সিনিয়র খেলোয়াড়। অথচ আঙ্গুল উঠছে আমাদের চারজনের উপর। তাহলে পুরো দলটা কী আমাদের চারজনকে নিয়ে ? এটা টিম গেম।’
ফেডারেশন সভাপতির প্রতি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার দাবি জানিয়ে চার খেলোয়াড় বলেন,‘সেক্ষেত্রে অনেক কিছুই বেরিয়ে আসবে।’ কী বেরিয়ে আসতে পারে জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘খেলোয়াড় সিলেকশন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্র খতিয়ে দেখা দরকার, এটা সঠিক তদন্তের স্বার্থে এবং দেশের হকির স্বার্থে।’
জিমি বলেছেন, ‘১৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে মাত্র দুইজন ছিলেন মিডফিল্ডার। একজন সাব্বির রানা অন্যজন কামরুজ্জামান রানা। সাব্বিরকে মাঠের বাইরে বসিয়ে রাখা হতো। কামরুজ্জামান রানা খেলেছেন। আমাদের তো মাঝমাঠে খেলার কথা না।’
গোলকিপার জাহিদ বলেন, ‘এশিয়া কাপ হকিতে সব মিলিয়ে ২৮ গোল হজম করেছি আমরা। এর মধ্যে ১৪টি গোল পেনাল্টি কর্নারের কারণে হয়েছে। আমি যদি খারাপই খেলি। তাহলে কোচ কেন আমাকে মাঠ থেকে তুলে নিলেন না। জাপানের বিরুদ্ধে আবার আমাকেই নামিয়েছেন কোচ, কেন?’
তিনি আরো বলেন,‘আমাদের দেশীয় কোচ (মাহবুবু হারুন) মাঠের ডাগআউটে বসতে পারেননি নিয়ম অনুযায়ী। তিনি ছিলেন গ্যালারিতে। দলের ব্যর্থতার পেছনে তার কি ভূমিকা ছিল বুঝলাম না। এটা আমাদের সবার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’
জাহিদ জাতীয় দলের সাম্প্রতিক খেলার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘গত এক বছরে আমরা অনেক সাফল্য পেয়েছি হকিতে। আবার ২০১০ সালে গুয়াংজুতে ওমানের কাছে আমরা ৫-২ গোলে এগিয়ে থেকেও ৬-২ গোলে হেরেছিলাম, তখন বলা হয়নি এটা ব্যর্থতা। ঢাকায় এশিয়ান গেমস হকিতে পাঁচ নম্বর দল হয়েছি। তখনও তদন্ত হয়নি। অথচ এখন তদন্তের নামে আমাদের উপর আঙ্গুল তোলা হচ্ছে। কারণ খেলোয়াড়দের দলবদল চেয়ে আন্দোলন করেছিলাম।’