ক্যানভাসে বাঙালি সংগ্রামের দুই দশক

’৫২ সালের ভাষা আন্দোলন মূলত ছিল আমাদের জাতীয়তাবাদী চেতনার সূচনা। ছিল সাংস্কৃতিক আন্দোলন। ভাষা না থাকলে সংস্কৃতি র্চচা থাকে না। সেই ভাষা-সংস্কৃতির চেতনাকে উজ্জীবিত করে রচিত হয়েছে আমাদের মুক্তির সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধ। ৫২ থেকে ৭১ বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের দুই দশক নির্ণিত হলেও, জাতীয় জীবনের ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে আমাদের কতদশক যুদ্ধ করতে হবে, তা বলা মুশকিল বলে অভিমত ব্যক্ত করেন ‘নিরন্তর’ শীর্ষক ক্যানভাসে বাঙালি সংগ্রামের দুইদশক চিত্রকর্ম উদ্বোধনকালে বক্তারা। গতকাল এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত বাঙালিসমগ্র জাদুঘরে ২৫ ফুট দীর্ঘ এই ক্যানভাস উদ্বোধন করেন মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) এ কে খন্দকার। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) এ কে খন্দকার বলেন, গুটি কয়েক বাদে দেশের প্রায় সব মানুষ সেদিন যুদ্ধ করেছিল। সেদিন আমরা একবারের জন্যও ভাবতে পারিনি আজ দেশে স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন ঘটবে না। দেশকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন করতে না পারলে মরেও আমাদের নিষ্কৃতি নেই। তাই প্রয়োজনে আবার যুদ্ধ করবো। অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা। একটি অসামপ্রদায়িক রাষ্ট্রের জন্য বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের ডাকদেন। অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন বঙ্গভঙ্গের পর থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্রিয়া শুরু হয়। আন্দোলনের মূলে ছিল দুটি চাওয়া। এক: পূর্ব-পাকিস্তানিদের দাবি কার্যকর স্বায়ত্তশাসন চাই। দুই পশ্চিমাদের শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন চাই। বক্তরা যুগযুগ ধরে বাঙলার ধারাবাহিক আন্দোলনের বিভিন্ন দিক আলোচনা করেন। চিত্রকর্মের শুরুতেই ভাষা আন্দোলনের মিছিল, তারপর ’৬৬ ছয়-দফা, ১১ দফা, ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর বিখ্যাত ভাষণ এবং ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমর্পণের পরে বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হওয়ার ক্ষণটি স্থান পায় এই শিল্পকর্মে। গতবছর ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটি এই চিত্রকর্ম অঙ্কন কার্যক্রম শুরু করে। শিল্পী সমরজিত্ রায়ের নেতৃত্বে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত ছবিগুলো আঁকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্কন ও চিত্রকলার শিক্ষকবৃন্দ। সেসময় এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ চিত্রকর্ম দেখা যাবে। শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।