রামপাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র সম্পর্কে টাইম

প্রকৃতিকে ভালো না বাসার উদাহরণ

বাংলাদেশের রামপালে প্রস্তাবিত বিদ্যুত্ কেন্দ্র এবং সুন্দরবনে এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে টাইম ম্যাগাজিনে গত ২৬ সেপ্টেম্বর একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। নিবন্ধটির সারসংক্ষেপ নিচে দেয়া হলো: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের ভবিষ্যত্ নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছেন পরিবেশবাদীরা। কারণ, সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে রামপাল এলাকায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন হতে যাচ্ছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার যৌথ উদ্যোগে এ বিদ্যুত্ কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার বলছে, এ বিদ্যুত্ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। কিন্তু এই বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করছে পরিবেশবাদীরা। তারা বলছে, সুন্দরবনের এত নিকটে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে তা পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এতে সুন্দরবনের সংলগ্ন পানির ডলফিন থেকে শুরু করে রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বন্য প্রাণীদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যাঝুঁকিতে থাকা নিচু সমতল ভূমির বাংলাদেশকে সুন্দরবন সব সময় রক্ষা করেছে। সুন্দরবনের ক্ষতি হলে আবহাওয়াজনিত ভয়ংকর ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে সুন্দরবন রক্ষা কমিটির সদস্য প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক কেউ এ ধরনের প্রকল্পে মত দিতে পারে না। রামপালের বিদ্যুত্ কেন্দ্রের সক্ষমতার সঙ্গে ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নির্মিত একটি কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্রের উদাহরণ টেনে আনছেন সমালোচকেরা। তাঁদের যুক্তি হচ্ছে, টেক্সাসের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের সময় কর্তৃপক্ষ পরিবেশের ক্ষতি হবে না বলেছিল। কিন্তু ২০১০ সালে এসে গবেষকেরা জানান, ওই বিদ্যুত্ কেন্দ্র থেকে প্রতিবছর নির্গত ৩০ হাজার টন সালফার ডাই-অক্সাইড কৃষিক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেয়ার দাবি উঠছে। আর বাংলাদেশের রামপালে প্রস্তাবিত কয়লা বিদ্যুত্ কেন্দ্র প্রতিবছর ৫২ হাজার টন সালফার ডাই-অক্সাইড নির্গমন করবে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র পরিবেশের ক্ষতির কারণ হবে বলে ছাড়পত্র দেয় বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এখানে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এ প্রকল্পে ভারতের অতি আগ্রহ নিয়েও জনমনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।