১১ তরুণের চেষ্টায় পাম চাষিদের দুঃখ ঘুচেছে

পাম চাষ এখন আর চাষিদের গলার ফাঁস নয়। ১১ বন্ধুর প্রচেষ্টায় মেহেরপুরের বিসিক শিল্প নগরীতে বসেছে পাম মাড়াই মেশিন। এই মেশিন ঘন্টায় হাজার কেজি পাম ফল মাড়াই করতে সক্ষম। পাম মাড়াই মেশিনের উদ্যোক্তা ডিপ্লোমা কৃষিবিদ শুরুজ শেখ ও হাবিবুর রহমান বলেন, ২০০৯ সালে গ্রীন বাংলাদেশসহ কয়েকটি এনজিওর আশ্বাসে ১২০টি গ্রামে পাম চাষ শুরু হয়। কিন্তু বছর পার না পেরুতেই গ্রীন বাংলাদেশ নামের ওই প্রতিষ্ঠান পাম গাছের চারা বিক্রির মোনাফা নিয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর পাম চাষিদের হতাশা বেড়ে যায়। পাম বাগানে ফল আসতে শুরু করলেও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় বাড়তে থাকে লোকশানের অংক। চাষিদের দুঃখ ঘুচাতে ২০১২ সালে ১১ বন্ধুর অর্থায়নে গড়ে তোলা হয় বোটানিক এগ্রো লিঃ। ১১ জনের দেয় অর্থে ঢাকার আমজাদ হোসেন ও আবুল হোসেনের সহযোগিতায় মালোয়েশীয়া থেকে আনা হয় যন্ত্রপাতি। সেই যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে মেহেরপুর বিসিক শিল্প নগরীতে বসানো হয় পাম মাড়াই মেশিন। পাম ফল থেকে তেল তৈরির বিষয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, পাম ফলগুলো বয়লারে ফেলে ৬০০ ডিগ্রী তাপ মাত্রায় জীবাণু মুক্ত করতে হবে। এরপর ক্রাসিং মেশিনে ফেলে বিচি ও ছালবাকলা আলাদা করতে হবে। পরে বাকলা হাইড্রেলিক প্রেসারে চেপে তেল বের করতে হবে। বিচিগুলো থেকে তৈরি হবে কার্ণেল ওয়েল। এই ওয়েল সাবানসহ অন্যান্য প্রসাধনীতে ব্যবহূত হয়। কৃষিবিদ শুরুজ বলেন, পাম চারা রোপণের ৩/৪ বছরের মধ্যেই মুকুল আসতে শুরু করে। একটি পামগাছ ১৫/২০ বছর একইভাবে ফল দিতে পারে। পাম থেকে তেল উত্পাদনের কৌশল তৈরি হয়েছে। এখন এটাকে রপ্তানি পণ্যে পরিণত করতে পারলে ঘুরে যাবে দেশের অর্থনীতির চাকা।