রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র তৈরিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব নিরাপত্তায়

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র পরিচালনায় নিরাপত্তা ও পরিবেশের দিকটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। রাশিয়া এই কেন্দ্র করবে। বাংলাদেশসহ ২৪টি দেশে পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে রাশিয়া। আগামী ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। আগের দিন ১ অক্টোবর রাজধানীর নভোথিয়েটারে খোলা হবে পারমাণবিক তথ্য কেন্দ্র। পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র বিষয়ে এই তথ্য কেন্দ্রে বিভিন্ন তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান ইত্তেফাককে বলেন, রাশিয়া তাদের সব থেকে ভাল প্রযুক্তি এই কেন্দ্রে ব্যবহার করবে। আগামী প্রজন্মের কাছে এই বিদ্যুত্ কেন্দ্র হবে অহংকারের। রাশিয়ার জাতীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম এই বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করবে। জাতিসংঘের আইএইএ সার্বক্ষণিক তদারকি করবে। রোসাটম বিদ্যুত্ কেন্দ্রর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করবে। রাসায়নিক যে বর্জ্য তৈরি হবে তা তারা নিয়ে যাবে। এই বর্জ্য থেকে আবার ইউরেনিয়াম তৈরি হবে। একারণে বর্জ্যকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছে তারা। বাংলাদেশে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করেই বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়া নিজের দেশেও তার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র পরিচালনা করছে। তাদের মোট বিদ্যুতের ১৬ ভাগ হচ্ছে পারমাণবিক বিদ্যুত্ থেকে। এই মুহূর্তে ২৪টি দেশে পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করছে রাশিয়া। পৃথিবীর অন্যতম বড় একটি পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র রাশিয়ার কুলুনিন পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র। চার হাজার মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতার এই কেন্দ্রর চারপাশ ঘিরে যে লেক সেখান থেকে পানি নিয়ে বিদ্যুত্ কেন্দ্র চালনা করা হচ্ছে। আবার সেই লেকেই স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে পানি ফেলা হচ্ছে। লেকে করা হচ্ছে মাছ চাষ। কুলুনিন বিদ্যুত্ কেন্দ্রর মহাপরিচালক মিহাইক কনশেভক বলেন, ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে বিদ্যুত্ কেন্দ্র পরিচালনার জন্য এর আশপাশে কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে এমন কোন নজির কোথাও নেই। কারণ বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের যে খরচ তার বেশিরভাগই চলে যায় এর পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য। ফলে এখান থেকে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। আর পরিবেশে যাতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া না হয় সে জন্য সব সময় পর্যবেক্ষণ করা হয়। গত ৩০ বছরে রাশিয়াতে কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। আশপাশের পরিবেশে কোন রেডিয়েশন দেখা যায়নি। প্রকৃতি যেমন ছিল তেমনই আছে। তিনি বলেন, সকল শিল্পই পরিবেশের কিছু না কিছু ক্ষতি করে। তবে যদি সতর্কভাবে করা যায় সেক্ষেত্রে সেই ক্ষতি রোধ করা সম্ভব। আমরা যে গরম পানি লেকে ছাড়ি তার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করেই ছাড়ি। তাপমাত্রা নিয়ে আমরা কোন আপোষ করি না। কুলিং টাওয়ার বিশেষভাবে তৈরি করা হয়। রাশিয়ায় পারমাণবিক কেন্দ্রর ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোন বায়োলজিক্যাল বা মেডিক্যালগত পরিবর্তন হয়নি। পর্যবেক্ষণের প্রতিবেদনে দেখা গেছে আজ পর্যন্ত কোন রোগও হয়নি। এই শহরে সকল কিছুই অন্য শহরের মতোই। মাছ চাষের পাশাপাশি এই এলাকায় নানা কৃষিচাষও হচ্ছে। ফসল আগের থেকে এখন আরো ভাল হচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় আণবিক শক্তি কর্পোরেশন রোসাটমের প্রকল্প প্রধান এনড্রে ইভানভ বললেন, আমরা মানুষের নিরাপত্তা আগে ঠিক করি। আগে নিরাপত্তা পরে অন্য কাজ। বিদ্যুত্ কেন্দ্র পরিচালনার জন্য বেশির অংশ খরচই চলে যায় নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার জন্য। বাকি অর্থ খরচ হয় পরিচালনা ও অন্য কাজে।