রাজধানীতে ড্রয়িং রুমে ঢুকে ব্যবসায়ীকে হত্যা
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:১৮
রাজধানীর পল্লবীতে বাসার ড্রয়িং রুমে ঢুকে গতকাল শনিবার দুপুরে একজন আবাসন ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। তিন যুবক বাসার সামনে গেলেও ঘরের ভেতরে ঢোকে একজন। ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাফরুল হক মুক্তার তার পরিচয় জানতে চাইলে যুবক তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে দ্রুত বেরিয়ে যায়। বাসার লোকজন হাসপাতালে নিলে চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের ট-ব্লকের পাঁচ নম্বর সড়কের ৮৭/৮৮ নম্বর বাসার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় একটি মোটর সাইকেল। তিন আরোহীর মধ্যে একজন খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলেন। অপর দু’জন দাঁড়িয়ে রইলেন মোটর সাইকেলের পাশে। তখন নিজ বাসার নিচতলায় বসার ঘরে ছিলেন আবাসন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাফরুল হক মুক্তার (৫৫)। হঠাত্ শার্ট-প্যান্ট পরা এক যুবককে ঘরে ঢুকতে দেখে তিনি তার পরিচয় জানতে চান। সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের একপর্যায়ে আগন্তুক যুবক মুক্তারকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যান।
রূপনগর থানার ওসি শিকদার মো. শামীম হোসেন বলেন, হত্যার কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নিহতের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচরে। একজন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এর জের ধরে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘হোমস টেক’ এর চেয়ারম্যান ছিলেন মুক্তার। ঘটনাস্থল ছয়তলা বাড়িটির প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় তিনি সপরিবারে থাকতেন। ঘটনার সময় তিনি নিচতলার বসার ঘরে একা ছিলেন। বুকের ডান পাশে ও ডান হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি আততায়ীকে জাপটে ধরে আটকানোর চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অস্ত্রধারী যুবক পালিয়ে যায়। রক্তক্ষরণের ফলে নিস্তেজ হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন মুক্তার।
নিহতের বড় ছেলে ও হোমস টেক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব আহমেদ জানান, ঘটনার সময় দোতলার ঘরে বসে খাচ্ছিলেন তিনি। হঠাত্ গুলির শব্দ শুনে তিনি দৌড়ে নিচে নামেন। তখন তিনি শার্ট-প্যান্ট পরা এক যুবককে পালিয়ে যেতে দেখেন। পরে বাবাকে উদ্ধার করে প্রথমে মিরপুরের হার্ট ফাউন্ডেশনে নেয়া হয়। প্রাথমিক চিকিত্সার পর তাকে নেয়া হয় স্কয়ার হাসপাতালে। সেখানকার চিকিত্সকদের পরামর্শে দুপুর ২টায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজীব দাবি করেন, শিবচরে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রউফ শিকদার ও তার ভাইদের সঙ্গে তার বাবার জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। দুই বছর আগে তারা এর জের ধরে তার বাবাকে বেধড়ক মারধর করে। এ ঘটনায় শিবচর থানায় একটি মামলা রয়েছে। এটির বিচার প্রক্রিয়া শেষের পথে। এরই মধ্যে আসামিদের একজন হাবিব শিকদার জামিন নিয়ে কুয়েতে পালিয়ে যান। তার নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে মনে করেন তিনি।
নিহতের পরিবারের দু’-একজন সদস্য দাবি করেন, চাঁদা না দেয়ায় সন্ত্রাসীরা মুক্তারকে হত্যা করে। চাঁদা দাবিকারী হিসেবে তারা ইউপি চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্যদের নামই উল্লেখ করেন। নিহতের বড় ভাই পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ওয়ালিউল হক মন্টু জানান, মুক্তার স্থানীয় আওয়ামী লীগের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের ডি-ব্লক ইউনিটের সদস্য ছিলেন। তার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হোমস টেক-এর কার্যালয় মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের ক-ব্লকে। তার বড় ছেলে এই প্রতিষ্ঠানেই কর্মরত। ছোট ছেলে রাব্বী আহমেদ মিরপুর কমার্স কলেজে পড়ছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচরের করূপচরে। নিহতের আরেক ভাই ফয়সাল আহমেদ বলেন, ঘাতককে ভাতিজা (রাজীব আহমেদ) দেখেছে। ও আবার দেখলে তাকে চিনতে পারবে। কিন্তু নাম প্রকাশ করলে হয়তো তাকেও মেরে ফেলবে সন্ত্রাসীরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে আছে পরিবেশ। বসার ঘরের মেঝেতে রক্তের দাগ। ঘরে জিনিসপত্র অগোছালো পড়ে রয়েছে।
রূপনগর থানার ওসি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত সংগ্রহ করেছে। হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে। দ্রুতই আমরা তাদের গ্রেফতার করতে পারব বলে আশা করছি।