নবম শ্রেণির ফিন্যান্স এবং ব্যাংকিং
গাজী সাজ্জাত হোসেন সিনিয়র শিক্ষক বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৩২
নবম অধ্যায়: সৃজনশীল প্রশ্ন
অরুণিমা ব্যাংক বৈধ অনুমোদন নিয়ে ২০০৮ সালে গঠিত হয়। বর্তমানে একজন ব্যক্তি ১.৫০ লক্ষ টাকা ঋণের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের নিকট আবেদন করেন। তিনি ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম, জমি বন্ধক রাখতে ও আগ্রহী। কিন্তু তার সরবরাহকৃত তথ্য ও দলিল পত্রাদির মধ্যে যথেষ্ট অমিল রয়েছে।
ক) চেইন ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য কী?
ক) ব্যাংকিং কার্যক্রমে আর্থিক সচ্ছ্বলতা কেন প্রয়োজন? ব্যাখ্যা কর।
গ) অরুণিমা ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় কোন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দরকার হয়েছিল? ব্যাখ্যা কর।
ঘ) ব্যাক্তিটিকে বন্ধকি ঋণ দেওয়া অরুণিমা ব্যাংকের পক্ষে যুক্তিসঙ্গত হবে কিনা তা মূল্যায়ণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর।
ক) চেইন ব্যাংকের মূখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে পারস্পরিক উন্নতি সাধন।
খ) ব্যাংকিং কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আর্থিক সচ্ছ্বলতা প্রয়োজন। আর্থিক সচ্ছলতার অভাবে ব্যাংক দেউলিয়া হতে পারে।
তাই আর্থিক সচ্ছ্বলতা বা প্রাচুর্য ব্যাংকের একটি অন্যতম নীতি।
গ) অরুণিমা ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় অবশ্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়েছিল।
বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসাবে বাংলাদেশে ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া ব্যাংক প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় । বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনহীন ব্যাংকগুলো সমবায় বা অন্য যে কোন নামে পরিচালিত হলেও তা বেআইনি ব্যাংকিং ব্যবস্থা হিসাবে চিহ্নিত হবে। বাংলাদেশে যত প্রকার বাণিজ্যিক ব্যাংক বা অন্য কোন ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হবে তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে। এ দেশে সমস্ত ব্যাংককে পরিচালিত, নিয়ন্ত্রিত ও নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রকার ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব। যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় তাই অরুণিমা ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অবশ্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থাত্ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়েছিল।
ঘ) ব্যাক্তিটিকে ঋণ দেয়া অরুণিমা ব্যাংকের পক্ষে মোটেও যুক্তি সঙ্গত হবে না। এর কারণ সমূহ নিম্নে র্বণনা করা হলঃ
প্রথমত যেহেতু তার সরবরাহকৃত তথ্য ও দলিলপত্রাদির মধ্যে যথেষ্ট অমিল রয়েছে তাই তার ঋণ নেয়ার উদ্দেশ্য খারাপ হতে পারে।
দ্বিতীয়ত ঋণ নিয়ে যদি তা তার সময়মত পরিশোধ করার মন মানসিকতা থাকতো তবে সে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সরবরাহ করত। তাই ঋণ নেয়ার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ।
তৃতীয়ত, যদি তিনি ঋণ পরিশোধে সক্ষম হন, জমি বন্ধক দিতেও আগ্রহী হন তবে তার সরবরাহকৃত তথ্যও দলিলাদির মধ্যে মিল না থাকার কারণ কী? তিনি কোন খারাপ উদ্দেশ্যে ঋণ নিতে চাইছেন সে বিষয়টিও যথেষ্ট প্রশ্নের দাবিদার।
অবশেষে বলা যায় উদ্দীপকের ব্যাক্তির পুরো বিষয়টি বেশ ঝামেলাপূর্ণ। তিনি ঋণ নিতে আবেদন করেছেন জমি বন্ধক দিতে আগ্রহী আবার গড়মিল তথ্যও দলিল পত্রাদি সরবরাহ করেছেন। তাই এ অবস্থায় উক্ত ব্যক্তিকে ঋণ দেওয়া উচিত হবে না।