রসনা তৃপ্তির অপূর্ব মিষ্টি ‘রসমঞ্জরি’
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৪
রসনা তৃপ্তির এক অপূর্ব মিষ্টি ‘রসমঞ্জরি’। গাইবান্ধাবাসীর মুখরোচক বা পছন্দের প্রিয় খাবার। যা গাইবান্ধা নামের সাথে ওতোপ্রতভাবে জড়িত। একমাত্র গাইবান্ধার মিষ্টির দোকানগুলোতেই পাওয়া যায় রসনা তৃপ্তির এই ‘রসমঞ্জরি’। মিষ্টির দোকানগুলোতে বিক্রির সারিতে সেরা আইটেমও এটি। তাই গাইবান্ধায় এসে কেউ এই মিষ্টির স্বাদ নিতে ভুল করেন না। আবার দেশে-বিদেশে বেড়াতে গেলেও আত্মীয়-স্বজনের জন্য জেলার পরিচয় বহনকারী এই মিষ্টিটি গাইবান্ধাবাসী নিয়ে যেতে যেতে ভোলেন না। এছাড়া উত্সব, অনুষ্ঠান বা অতিথি আপ্যায়নে এই মিষ্টির প্রচলন গাইবান্ধার ঘরে ঘরে। দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে গাইবান্ধায় মিষ্টির দক্ষ কারিগররা গরুর খাঁটি দুধ দিয়ে রসমঞ্জরি তৈরি করে সুনাম ধরে রেখেছেন। এই মিষ্টির উদ্ভাবক কে সে বিষয়ে জেলার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব ও মিষ্টি ব্যবায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায় ৬০ দশক পর্যন্ত গাইবান্ধায় মিষ্টি ব্যবসায়ী হিসেবে উড়িয়াদের আধিপত্য ছিল। বাঙালিদের দোকানে তেমন ক্রেতা সমাগম হোত না। তাই ক্রেতা আকর্ষণের জন্য ৬০ এর দশকে বাঙালি মিষ্টি ব্যবসায়িরা নুতন রকমের এক মিষ্টি তৈরির চেষ্টা চালান। সেসময় মিষ্টি ব্যবসায়ী রাস মোহন দের ছেলে নিত্যগোপাল দে ও তার কারিগর কামাক্ষা বাবু মিলে রসমঞ্জরি উদ্ভাবন করেন। তবে সে সময় রসমঞ্জরির দানাগুলো লম্বাটে ও বড় আকৃতির এবং ক্ষির পাতলা ছিল। পরে অন্য মিষ্টি ব্যবসায়ী রমেশ ঘোষের দানা গোলাকার ও ছোট এবং ক্ষির ঘন করেন। তখন এই রসমঞ্জরিই জনপ্রিয়তা পায় এবং এখনও সেভাবেই এটি তৈরি হয়।