সাদুল্লাপুরে চাষ হচ্ছে মালটা

সিলেট, চট্টগ্রাম ও পঞ্চগড় জেলার পর এবার গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলাতে বারী মালটা-১ চাষ করা হচ্ছে। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৪ একর জমির ৩০টি বাগানে এবারেই প্রথম মালটার চারা লাগানো হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফরিদপুর, ইদিলপুর, ধাপেরহাট, জামালপুর ও রসুলপুর ইউনিয়নের ৩০টি বাগানে গত এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারী মালটা-১ এর কলম চারা লাগানো হয়েছে। একটি মালটা গাছের চারা হতে আরেকটি গাছের চারার দূরত্ব ৩ মিটার এবং এক লাইন থেকে আর এক লাইনের দূরত্ব ৩ মিটার। উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের তরফকামাল গ্রামের শ্রী খুদিরাম বর্মণের ছেলে শ্রী রাধিকা বর্মণের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি কৃষি অধিদপ্তরের ২য় শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে প্রায় ১ বিঘা জমিতে বারী মালটা-১ এর চারা লাগিয়েছেন। ইতোমধ্যে উক্ত বারী মালটা-১ এর গাছগুলো প্রায় ৩ থেকে ৪ ফুট লম্বা হয়েছে। একই গ্রামের কৃষক রঞ্জু মিয়া জানান, তার প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে বারী মালটা-১ চাষ করেছেন। ওই একই জমিতে পাশাপাশি লাল শাক ও ডাটা শাক রোপণ করেছিলেন। বড় দাউদপুর মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক নারায়ণ চন্দ জানান, একই জমিতে মালটার পাশাপাশি সাথী ফসল হিসাবে, আদা, রসুন, শাক, ডাটা, বেগুনসহ বিভিন্ন শাক-সবিজ চাষ করা যায়। ফলে মালটা চাষের বাগানের জন্য বছর বছর কোন জমি ফেলে রাখতে হবে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান জানান, এই বারী মালটা-১ উপকারী সম্পদ, যার নেই কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। এছাড়া উপজেলার বেশিরভাগ এলাকার মাটি বারী মালটা-১ চাষের উপযোগী। মাত্র ১২ থেকে ২০ শতক উঁচু জমিতে এই ফলের বাগান করা যায়। তিনি আরো জানান, আগামী মার্চ-এপ্রিল মাসের দিকে প্রত্যেকটি বাগানের ফল বাজারজাত করা যাবে, এছাড়া অল্প জমিতে এই ফসল অধিক টাকাও দেবে বলে তিনি আশা করছেন।