কোচাশহরের হোসিয়ারি শিল্প গ্রামীণ মানুষের সাফল্যগাথা
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৫৩
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়ন থেকে প্রায় ৩ কি.মি. নিরিবিলি পথ রিক্সা ভ্যান যোগে পার হয়ে নয়ারহাট গ্রাম। প্রত্যন্ত এলাকায় পাকা ঘরবাড়ি আর তার নির্মাণশৈলী সম্পন্নতার ইঙ্গিত দেয়। গ্রাম জুড়ে শুনশান নিরবতা। এখানে খুটখাট শব্দে শীতের পোশাক তৈরি করেই মানুষ দারিদ্র্যকে জয় করেছে। সরকারি সহায়তা ছাড়াই ঘটে গেছে নিরব বিপ্লব। বাড়ি বাড়ি ৫ শতাধিক কারখানা (হোসিয়ারি শিল্প) মূলত: কুটির শিল্পের পর্যায়ে পড়ে। বছরে ১০০কোটি টাকার উপর বেচাকেনা হয়। এই শিল্পের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করলে বাংলার প্রতিটি গ্রাম পারবে নিজ পায়ে দাঁড়াতে।
যেভাবে শুরুঃ প্রবীণ ব্যবসায়ী নয়া মিয়া (৭০) এখানে এই শিল্পের পথিকৃত্। তিনি জানালেন, তিনি ও ধিরাজ খলিফা পাকিস্তান আমলে ঢাকায় মেশিনে সুয়েটার বুননের কাজ শিখেছেন। ঢাকা থেকে পাকিস্তান আমলেই গ্রামে ফিরে সুয়েটার তৈরি করে গাইবান্ধা বিভিন্ন হাটে বাজারে ফেরি করে বিক্রি করতেন। তাদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা দেখে প্রথম প্রথম গ্রামের কিছু মানুষ হস্ত চালিত মেশিনে প্রথমে তাদের কাছে কাজ শিখেছেন। পরে ধীরে ধীরে একে অন্যের কাছে কাজ শিখে কেউ কারখানার মালিক কেউ শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে শুরু করেছেন। কিন্তু এই শিল্পটির ব্যাপকতা লাভ করে ২০০০ সালে। এখন ৫ শতাধিক কারখানার প্রতিটিতে মালিকরা ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা মূলধন বিনিয়োগ করে ব্যবসা চালাচ্ছেন।
উত্পাদিত শীতবস্ত্রঃ উলের মাফলার, মোজা, টুপি, কার্ডিগান, ব্লাউজ, সোয়েটার, বাচ্চাদের বিভিন্ন রকমের পোশাকসহ ৩০ ধরনের পোশাক তৈরি হচ্ছে কোচাশহরের এই হোসিয়ারি শিল্প পল্লীতে। ভারতীয় ও চায়না মেশিনে শীতবস্ত্র বোনা হয়। তাইওয়ান, কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভারত থেকে আমদানী করা সুতা ঢাকা থেকে নিয়ে আসা হয়। প্রতিটি মেশিনের দাম ৩০ হাজার টাকা। একেকটি কারখানায় আছে ১০ থেকে ৩০টি মেশিন।
উত্পাদন সময়ঃ উত্পাদন চলে শ্রাবণ থেকে মাঘ পর্যন্ত। প্রতিটি কারখানায় ১০/১৫ জন শ্রমিক কাজ করে। ফলে কারখানা ও হাট মিলিয়ে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষের। রাহাত হোসিয়ারির মালিক আব্দুর রাজ্জাক (৩০) বলেন, বাজার ধরতে মাঘ মাস পর্যন্ত পোশাক তৈরি করে মজুদ করতে হয়। যার মূলধন বেশি সে বেশি মজুদ করে লাভবান হতে পারে।