আলোচনায় থাকার অন্যতম কৌশল যেন ‘ফাঁকা আওয়াজ’
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৩৭
ঢালিউড নায়িকাদের ইদানীংকার কলকাতা প্রীতি বাড়ছে, তা পুরোনো খবর। তবে এই প্রীতিকর খবর দিতেই যেন আওয়াজ সর্বস্ব হয়ে যাচ্ছেন কেউ কেউ। এরই মধ্যে জয়া আহসান ও নিপুণ কলকাতায় দু’টি চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে এ ক্ষেত্রে প্রসেনজিতের মতো টলিউড সুপারস্টারের বিপরীতে অভিনয় করে নিপুণ জয়া থেকে অনেকটা এগিয়ে। অন্যদিকে বাংলাদেশে কমার্শিয়াল ধারার ছবি এখনও জয়ার বের হয়নি। তেমনি কলকাতায় ‘আবর্ত’ নামের যে ছবিটি বের হয়েছে সেটিও টলিউডের কমার্শিয়াল ধারার কোনো চলচ্চিত্র নয়। মূলত আসছে ঈদে জয়া আহসানের জন্য কঠিন পরীক্ষা হবে যে, তিনি মূলধারার অর্থাত্ বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রে কতটা সফল। তবে এই দুই নায়িকা তবুও ওপার বাংলার চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। বাকি কেউ কেউ হয়তো ব্যক্তিগত কাজে গেলেও দেশে ফিরেই মিডিয়াকে বলছেন আমি ভারতের অমুকের সাথে অভিনয় করছি। আর এই ফাঁকা আওয়াজে বিভ্রান্ত হচ্ছেন মিডিয়াকর্মী। এ যাবত্ র্যাম্প মডেল রুহি বেশ ক’বার বলেছেন ইন্দ্রনীলের বিপরীতে আবার কোনো কোনোবার পরমব্রতের বিপরীতে অভিনয় করছেন। কিন্তু আদপে তার কোনো কাজেরই খবর পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও আরও বেশ কিছু উঠতি তারকাদের ভেতরেও এ ধরনের আওয়াজ দেওয়ার খেলাটা প্রকট। চলচ্চিত্রে যেকোনো উপায়ে আলোচনায় থাকার রীতি আন্তর্জাতিকভাবেই স্বীকৃত। কিন্তু আমাদের দেশে ইদানীং একে অপরকে গালি দিয়ে এমনকি একে অপরের বিরুদ্ধে ‘মামলা মামলা’ নাটক করেও আলোচনায় থাকতে চাইছেন। সম্প্রতি শওকত আলী ইমন আর দেবাশীষ বিশ্বাসের এই মামলার বিষয়টিকেও অনেকে নিজের আলোচনার উনুনে আরেকটু বাতাস দেওয়ার কাজের মতোই দেখছেন। কারণ এ নিয়ে প্রায় ডজন খানেক মামলা বিষয়ক খবরের শিরোনাম হয়েছেন শওকত আলী ইমন। তাই তার আলোচনার ক্ষেত্রে এটি যেন প্রিয় বিষয়! এরপরও চলচ্চিত্রের ইতিবাচক আলোচনায় আসুক তারকারা। যখন জেমস কোনো ধরনের আওয়াজ না দিয়েও কাজ করে চলেছেন, এমনকি একের পর এক কাজ দিয়ে বলিউডের শীর্ষ অবস্থানগুলোকে আরও খানিকটা নাড়িয়ে দিচ্ছেন; তখন এই তারকাদের ফাঁকা আওয়াজ কিছুটা হলেও লজ্জায় ভোগায়। এদিকে সর্বশেষ শোনা যাচ্ছে জয়া আহসান মহেশ ভাটের পরবর্তী ছবিতে কাস্ট হচ্ছেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও কোনো কন্ট্রাক্ট পেপার নেই যা মিডিয়াকে দেখানোর মতো। শুধু দুজনার একসাথে ছবি তোলা ছাড়া। মিডিয়ার এ ধরনের ফাঁকা আওয়াজ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী তমালিকা কর্মকার বলেন, ‘আমি জানি না এ ধরনের ফাঁকা আওয়াজ কতটা প্রাসঙ্গিক একজন শিল্পীর ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে। যেমন আমি কারো নাম না বলেই বলতে পারি, টিকেট কেটে তো আমিও কান উত্সবে যেতে পারি। এটাকে কি যাওয়া বলে! আর তাদের রেড কার্পেট ফোরামে যাদের নেওয়া হয় তারাই মূলত আমন্ত্রিত। গেল বছরের কান উত্সবের নিজস্ব ওয়েব সাইটে কোনো রেড কার্পেটের ছবি পাওয়া যায়নি।’
একইভাবে নির্মাতা অভিনেত্রী মাহবুবা ইসলাম সুমী বলেন, ‘আমি ভারতের প্রখ্যাত নির্মাতা-কথাসাহিত্যিকের সাথে কাজ করেছি অগণিত। কোনোদিন কাজের আগে ঢোল পিটিয়ে বলার অভ্যেস তখনও ছিল না এখনও নেই। কিন্তু এখন দেখি কেউ কলকাতায় নিজস্ব শপিং করতে গেলেও দেশে ফিরে এসে বলে অমুকের সাথে ছবি সাইন করে এলাম। এটাই কি আমাদের বড় তারকার মূল সার্টিফিকেট!’
এ রকম একাধিক উদাহরণ শুধু চলচ্চিত্রে নয়। অন্যান্য ক্ষেত্রেও রয়েছে। ইভেন্ট প্রতিষ্ঠান অন্তর শোবিজ গত কয়েকবছর ধরে কোনো সময় বলছেন তারা এআর রহমানকে নিয়ে আসছেন, আবার বলছেন বচ্চন ফ্যামিলিকে নিয়ে আসবেন। কিন্তু আদপে কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। আর চূড়ান্ত তারিখ বা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়। যেন দর্শক কৌতূহল উদ্দীপক এই খবরগুলো যেমন আনন্দ দেয়, ঠিক তেমনি কথা অনুযায়ী কাজ না হয়ে কালক্ষেপণ হলেই তা আরও প্রকট বিভ্রান্তিকর খবর হয়ে দাঁড়ায়। তারকাদের এ ধরনের খবরগুলোও যেন সেদিকেই রূপ নিচ্ছে ক্রমশ।