নির্বাচন স্থগিতের দাবি সাবের হোসেনের

বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলছে, শুরু থেকেই তার সমালোচনা করছেন সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ঘোষিত নির্বাচনী তফসিলকে অবৈধ বলে মনে করছেন এই সাংসদ। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হয়ে এই নির্বাচন স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন সাবেক এই বিসিবি সভাপতি। খসড়া ভোটার তালিকার উপর আপত্তি গ্রহণ ও শুনানির দিন ছিল গতকাল। সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ১৪টি আপত্তি জমা পড়েছে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা কাউন্সিলরদের ব্যাপারে। এ সবকিছুর মধ্যে সারাদিনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল বিসিবি নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরীর আপত্তি। সকালেই সাবের হোসেন চৌধুরী তার বাহক মারফত সাত পৃষ্ঠার একটি আপত্তি পত্র পাঠান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে। বিকালে তিনি নিজেই নির্বাচন কমিশনের মুখোমুখি হয়ে আপত্তির বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। প্রায় দুই ঘন্টা আলোচনার পর বেরিয়ে এসে সাবের হোসেন বলেন, ‘আদালত থেকে নির্বাচনের ব্যাপারে যে রায় (নির্দেশনা) দেয়া হয়েছিল, তার সার্টিফাইড কপি নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই। তাহলে কিসের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হচ্ছে।’ একই সঙ্গে বর্তমান তফসিল বাতিল করার আবেদন জানিয়েছেন সাবের হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘ভোটারদের কাউন্সিলর তালিকাটি অবৈধ। কারণ কাউন্সিলর তালিকা তৈরি করার অধিকার নেই বিসিবির। নির্বাচন কমিশনকে তালিকা করতে হবে। ভোটার তালিকা প্রণয়ন করার এখতিয়ার বিসিবি রাখে না। তিনি বলেন এটা বাতিল করে নির্বাচন স্থগিত করতে হবে।’ তিনি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কাউন্সিলর মনোনয়ন নিয়ে বলেছেন, সভা ছাড়া সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ লিগের স্ট্যান্ডিংটা ২০১১-১২ মৌসুম অনুসারে করা হয়েছে। এটাকে ২০১২-১৩ সালের জন্য করার দাবি জানিয়েছেন। সাবের চৌধুরী বলেছে, তার অভিযোগ গৃহীত হলে ভালো। না হলে কেন দাবি গৃহীত হলো না সেটার লিখিত ব্যাখ্যা দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনের কাছে। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন যদি প্রভাব ছাড়া কাজ করে তাহলে আশাকরি সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হবে না।’ নিজের নির্বাচনের ব্যাপারে বলেন, ‘আমি নির্বাচনে প্রতিবাদের অংশ হিসাবে কাজ করছি। এখানে কে জিতবে আর কে হারবে, তা আমার কাছে বড় নয়। আমি চাই ক্রিকেটের জয় হোক।’ সাবের হোসেন চৌধুরীর বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান বলেন, ‘আদালতের সার্টিফাইড কপি আমার কাছে থাকার কথা না। নির্বাচনের জন্য আমার কাছে ২০১২ সালের সংশোধনী গঠনতন্ত্র দেয়া আছে। আমরা সেটি নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছি।’ বিসিবি থেকে কাউন্সিলর তালিকা পাঠানোর ব্যাপারে আব্দুর রহমান বলেছেন, ‘যেটা সঠিক সেটাই করার চেষ্টা করব।’