ইরানকে পরমাণু অস্ত্রহীন করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র?
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২৮
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্র দুটি একে অপরের শত্রু হিসেবেই পরিচিত। ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র বলে, ‘শয়তানের চক্র’, আর ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র পরিচিত ‘রাম শয়তান’ হিসাবে। আর শত্রুতা জন্ম নিয়েছে মূলত ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। কিন্তু এই নেতিবাচক পরিচিতি যে দেশ দুটির বিশ্বের জন্য শান্তিপ্রিয় মানুষের জন্য ক্ষতিকর হচ্ছে সেটা কিছুটা হলেও দুই দেশ বুঝতে পারছে। সামপ্রতিক কিছু ঘটনাবলী এরকম ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ইরানের নতুন উদারপন্থি প্রেসিডেন্ট রুহানি দায়িত্ব নেয়ার পর নানা ইতিবাচক পদক্ষেপের বার্তা বিশ্ববাসী জানতে পেরেছে। কিন্তু বক্তব্যে যতোটা শান্তির সুবাতাস পাওয়া গেছে তার কার্যকর কিছু এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে সত্যি হলো, দেশ দুটি এখন আলোচনায় বসতে চায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। আর ইরানি প্রেসিডেন্টও বলেছেন, তার দেশ পরমাণু বোমা তৈরি করবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পদক্ষেপ ইরানকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় আছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির মধ্যে সরাসরি সাক্ষাত্ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। যা হলে কূটনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটা মাইলফলক সৃষ্টি হতো। কিন্তু হয়নি। দুইজন দুইজনকে যেন সচেতনভাবেই এড়িয়ে গেলেন। নিদেনপক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে তাঁদের দেখা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তখন তাঁরা করমর্দন করবেন এমন গুঞ্জন শুরু হয়েছিল আগের দিন থেকেই। সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে এই সংবাদটি ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছিল। ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আনুষ্ঠানিক বৈঠকের ব্যাপারে ওবামা প্রশাসনেরই প্রকৃত কোনো ইচ্ছা ছিল না। ইরানের প্রতিনিধিদলও এ ধরনের বৈঠক রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে বিষয়টি সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ওবামা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের দেশ হতে দেবে না। তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সঙ্কট দূর করতে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। ওবামা বলেন, ইরানের কিছুটা সম্প্রীতির সুরে তিনি কিছুটা উত্সাহ পাচ্ছেন। তিনি বলেন, দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সমঝোতার জন্য একটি ভিত্তি থাকা দরকার। যদিও এই পথের প্রতিবন্ধকতাগুলো জয়লাভ কঠিন। তবে এগুলো পাহাড়প্রমাণ হয়ে দাঁড়ালেও সঙ্কট সমাধানে কূটনৈতিক পন্থাকে অবশ্যই কাজে লাগানো উচিত বলে মনে করেন ওবামা। তিনি একথাও উল্লেখ করেন যে, এ উদ্যোগ সফল করতে সম্প্রীতির কথাগুলো কাজে পরিণত করতে হবে। যা হবে স্বচ্ছ এবং যাচাইযোগ্য। এখন ইরান প্রকৃতপক্ষে এই উদ্যোগ সফল করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলে তা ওই অঞ্চল এবং গোটা বিশ্বের জন্য শান্তির বার্তা বয়ে আনবে বলে মন্তব্য করেন ওবামা।
আর অন্যদিকে জাতিসংঘে প্রথম ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, পরমাণু অস্ত্র বা এই ধরনের ব্যাপকবিধ্বংসী কোনো অস্ত্রের স্থান ইরানের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিভাগে নেই। এটা আমাদের মৌলিক ধর্মীয় বিশ্বাস এবং নৈতিক ভিত্তির বিপরীত। তিনি এও মন্তব্য করেন যে, ওবামা ‘যুদ্ধবাজ দলের চাপ’ দ্বারা প্রভাবিত হবেন না বলে আশা করি। তিনি বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনকে সঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ারও আহবান জানান। তিনি আরো বলেন, তাদের বুঝতে হবে, আমরা (মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো) নিজেরাই নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের পর্যায়ে পৌঁছে গেছি। রুহানি হুঁশিয়ার করে বলেন, ইরানকে পরমাণু প্রযুক্তি প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিয়ে কোনো লাভ নেই। কারণ ইরানের পারমাণবিক জ্ঞান এখন অনেক উন্নত। পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং এর মজুদ এরই মধ্যে শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সুতরাং এটা বিভ্রম ও অত্যন্ত অবাস্তব যে, ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রকল্প অবৈধ কোনো চাপের কারণে বন্ধ হয়ে যাবে।
ইউরেনিয়াম মজুদ ও সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে রাজি না হওয়ায় ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ ও অন্যদের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে জার্মানির একনায়ক হিটলারের ইহুদি নিধনকে (হলোকাস্ট) ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘নিন্দনীয় অপরাধ’ বলে বর্ণনা করেছেন ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। রুহানির পূর্ববর্তী ইরানি কট্টরপন্থি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ হলোকাস্টকে ‘মিথ’ হিসেবে বর্ণনা করে অস্বীকার করেছিলেন।
গত মাসে ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরি সম্পর্কে পরিবর্তন আনার সদিচ্ছা অনেকভাবেই করেছেন রুহানি। তার বক্তব্যে এই ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তাঁর দেশের মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নতুন দিনের সূচনা দেখতে চায়। যদিও এর আগে রুহানি বলেছিলেন, ইরান তার পারমাণবিক শক্তি অর্জনের অধিকারে ‘একবিন্দুও’ ছাড় দেবে না বলে জানিয়েছে রুহানি। ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদও ‘একবিন্দুও’ কথাটি বেশ ব্যবহার করতেন। আর তাই ওবামা জাতিসংঘে রুহানির বক্তব্যে যা আশা করেছিলেন সেটা পাননি। বড় দুটি বিষয়ে ইরানের আগের অবস্থানে অটল থাকার বাস্তবতাই ফুটে উঠেছে রুহানির কথায়। তাঁর দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টির সমালোচনা করেছেন তীব্র ভাষায়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও বিষোদগার করেছেন। আর এরপর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, আণবিক বোমা তৈরি পরিকল্পনার ব্যাপারে মিষ্টি কথা বলে রুহানি আসলে বোমা তৈরির জন্য সময় নিচ্ছেন।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা আরও বেড়েছে। আইএইএ তাদের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে জানায়, সবচেয়ে সংবেদনশীল পারমাণবিক উপাদান ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার কাজ ততটা এগোয়নি। তবে নাতাজ পারমাণবিক কেন্দ্রে এক হাজার আটটি অত্যাধুনিক চুল্লি চালু করা হয়েছে। এর আগে সেখানে পারমাণবিক চুল্লির সংখ্যা ছিল প্রায় ৭০০টি। এক দশক ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পশ্চিমা বিশ্বের মাথাব্যথার কারণ হয়ে আছে। ইরান দাবি করছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচির উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ। পশ্চিমাদের অভিযোগ, পারমাণবিক বোমা বানানোর চেষ্টা করছে ইরান। নতুন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি নির্বাচনী প্রচারণায় অঙ্গীকার করেন, তিনি এ বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখবেন এবং আইএইএ ও পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করবেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদের সময়ে ইরানের সঙ্গে আইএইএর সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
রুহানি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে তাঁর চিঠি চালাচালি হয়েছে। ক্ষমতাসীন হওয়ার মাসখানেকের মধ্যেই রুহানি তাঁর পূর্বসূরির (মাহমুদ আহমাদিনেজাদ) পররাষ্ট্রনীতি ও তাঁর সুর থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রায় এক মাস আগে দেশটির নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইহুদিদের নববর্ষের (রশ হাসানাহ) শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রুহানি ইতোমধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে ‘ইতিবাচক’ পত্রবিনিময় করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনবিসি টেলিভিশনকে বলেছেন, ইরান বিশ্বের (পশ্চিমা বিশ্ব) সঙ্গে যুক্ত হতে চায় এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। আর রুহানিই প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদপত্রে উপসম্পাদকীয় লিখেছেন। ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা ওই নিবন্ধে তিনি অন্যান্য দেশের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চান বলে জানান।
প্রেসিডেন্ট রুহানি এটা পরিষ্কারভাবে বলতে চান যে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা তাঁর আছে। এ ব্যাপারে হোয়াইট হাউসের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা গ্যারি সিক বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই যে পরিবর্তন দেখেছি, তা নাটকীয়। রুহানি ও তাঁর দলের আইনপ্রণেতারা আহমাদিনেজাদবিরোধী। তিনি বলেন, রুহানির কথার স্বর যা, তাতে আমেরিকার পক্ষে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখানো অনেক সহজ হবে। গ্যারি সিক আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট রুহানির প্রস্তাব এমন, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তাই এটি পরীক্ষা করে দেখা উচিত। এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। আগের বছরগুলোর চেয়ে নিউইয়র্কের চেহারাও পাল্টেছে। আগের বছরগুলোতে জাতিসংঘের অধিবেশনের সময় অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও টাইমস স্কয়ারের বিভিন্ন বিলবোর্ডে আহমাদিনেজাদের ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যের নিন্দা জানানো হতো। তাঁর পরমাণু কর্মসূচিরও বিরোধিতা করা হতো। তবে এবার আর এমনটি হয়নি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে রুহানিই ছিলেন সবচেয়ে বেশি উদারপন্থি। তিনি নারীদের সম-অধিকার ও সমান মজুরি দেওয়া, রাজবন্দীদের মুক্তি দেওয়া, পশ্চিমের সঙ্গে আলোচনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে উদারপন্থী নীতি গ্রহণের পক্ষে। বিশ্লেষকেরা নির্বাচনের সময় মন্তব্য করেছিলেন, উদারপন্থি রুহানি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেও ইরানের নীতিতে খুব একটা পরিবর্তন আসবে না। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর রুহানি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে উদারপন্থার জয় হয়েছে। এ বিজয় প্রজ্ঞা, উদারতা ও পরিপক্বতার। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে দুর্দশাগ্রস্ত লাখো ইরানি অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার প্রত্যাশায় রুহানিকে বিপুল ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন। ২০০৩-২০০৪ সালে ইরানের সংস্কারবাদী সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির পরমাণু মধ্যস্থতাকারী দলের প্রধান ছিলেন রুহানি। তিনি পদত্যাগ করার পর ওই দায়িত্ব নেন মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ইরান তখন থেকে ব্যাপকভাবে পরমাণু স্থাপনা বিস্তৃতকরণের কাজ করে আসছে বলে মনে করা হয়। রুহানি নির্বাচিত হওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেন যে, ইরানের তেল ও ব্যাংকিং খাতের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই নিষেধাজ্ঞা অন্যায্য। তিনি এসব সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রয়োজনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রস্তুত বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
ইরানের কূটনীতিক থেকে শুরু করে অনেকেই চান, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভাল করতে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী আকবর সালেহি আহমেদিনিজাদকে এড়িয়ে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে এক চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেটিতে সালেহি মত দিয়েছিলেন, তেহরানের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা। এই দুটি দেশের মধ্যকার সম্পর্কটা যতটা খারাপ বলে আপাতভাবে মনে হয়, প্রকৃতপক্ষে তা অনেক বেশি জটিল ও সংঘাতপূর্ণ। দু’দেশের অনেক কূটনীতিক, সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সূত্র ও পেশাজীবী পণ্ডিতদের সাক্ষাত্কার থেকে জানা গেছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কার্যত নির্ধারিত হচ্ছে পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহপ্রবণতা দিয়ে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৩০ বছর ধরে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তাই সময় যতো গড়াচ্ছে দেশ দুটির মধ্যে বিশ্বস্ততা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। এতে খুব তাড়াতাড়ি সফল একটা কিছু দেখা যাবে বলে মনে করছেন না কারনেজি এনডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের কর্মকর্তা করিম সাজ্জাদপুর। তিনি বলেন, যাঁরা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তাঁরা চুক্তিতে আগ্রহী নন। তাই দুই দেশের বর্তমান উদ্যোগ সফল হলে কেবল তারাই লাভবান হবে না, বিশ্বের অন্যান্য দেশও পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে পদক্ষেপ নিবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।