বার্লুসকোনির মন্ত্রীদের পদত্যাগ, সংকটে ইতালি সরকার
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৩৪
সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনির রাজনৈতিক দলের সব মন্ত্রী ইতালির দুর্বল জোট সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করায় দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এনরিকো লেত্তা একে বার্লোসকোনির উস্কানিতে ‘ক্ষেপাটে কাজ’ বলে মন্তব্য করেছেন। খবর এএফপির।
পার্লামেন্টে আগামী সপ্তাহের আস্থাভোটকে সামনে রেখে মন্ত্রিসভার সব সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শনিবার বার্লুসকোনির মধ্য-ডানপন্থী দল পিপল অব ফ্রিডম (পিডিএল)-এর পাঁচ মন্ত্রী একযোগে পদত্যাগ করেন। ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পিডিএল-এর পার্টি সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলিনো আলফানো বলেন, বার্লোসকোনির আহ্বানে পিপল অব ফ্রিডম (পিডিএল)-এর পাঁচ সদস্যের সকলেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বার্লুসকোনি এর আগে প্রধানমন্ত্রী এনরিকো লেত্তার ডিক্রির প্রতিবাদ জানাতে মন্ত্রীদের ওয়াক আউট করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বার্লুসকোনি শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এবং তার ডেমোক্রেটিক পাটি(পিডি)’র পক্ষ থেকে জোট সরকারের সদস্যদের জন্য দেয়া চূড়ান্ত সময়সীমা অগ্রহণযোগ্য।’ পিডিএলের বিরুদ্ধে শোডাউনের অংশ হিসেবে তিন শ’ কোটি ইউরোর একটি প্যাকেজ বাজেটের পক্ষে সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হওয়ার পর লেত্তা আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্টে আস্থাভোটের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ অবস্থায় পিডিএলের মন্ত্রীরা কেবিনেট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় এখন প্রেসিডেন্ট জর্জিও ন্যাপোলিতানোকে হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে অথবা লেত্তার দলকে নতুন করে জোট সরকার গঠনের সুযোগ দিতে হবে।
অবশ্য প্রেসিডেন্ট নেপোলিতানো শনিবার আভাস দিয়েছেন, তিনি দেশে নতুন নির্বাচন দিতে চান না। নেপলস শহরে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন একটি পার্লামেন্ট দরকার যেটি বিতর্কের পাশাপাশি কাজ করবে, কিছুদিন পরপর ভেঙে যাবে না।’ নেপোলিতানো আরো বলেন, ‘আমরা কয়েকদিন পরপর নির্বাচনী প্রচার দেখতে চাই না। আমরা চাই সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক এবং দেশের সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিক।’ নেপোলিতানো সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে আরেকটি নির্বাচন দিলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সংকট আরো বাড়বে; কমবে না। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে পিডি বা পিডিএলের কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ার পর দল দু’টি মিলে জোট সরকার গঠন করে।