বরিশালে সাড়ে ৮ কোটি টাকা মূল্যের জমি উদ্ধার
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:০৬
নগরীর পোর্ট রোড ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা মূল্যের ৪০ শতাংশ জমি অবৈধ দখল মুক্ত করে দখলে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ উচ্ছেদ অভিযানে অবৈধ ঘর-বাড়ি দোকানসহ ৩৩টি পাকা-আধা পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আশির দশকে নগরীর পোর্ট রোড এলাকা ঘেঁষে লম্বালম্বিভাবে কীর্তনখোলা নদীর বিশাল অংশে চর জেগে ওঠে। চর ওঠার সাথে সাথে সেখানে ছোট ছোট স্থাপনা তৈরি করে দখলে নেয় শতাধিক ব্যক্তি। পরবর্তীতে ঐ চরে বালি-মাটি ফেলে দখল পাকাপোক্ত করে অবৈধ দখলদাররা। মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু উচ্ছেদ করা হলেও ৩৩ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে উচ্ছেদে ব্যর্থ হয় জেলা প্রশাসন।
এরপর অবৈধ দখলদাররা সরকারের কাছ থেকে জমি লীজ নিতে বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়-ঝাঁপ করেন। লীজ পেতে কেউ কেউ নিম্ন আদালতেরও শরনাপন্ন হন। কিন্তু লীজ নিতে তারা ব্যর্থ হন। ধীরে ধীরে সেখানে পাকা-আধা পাকা বহুতল স্থাপনা নির্মাণ করা হয়।
২০১০ সালে সেখানকার অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসন থেকে নোটিস দেয়া হয়। কিন্তু রাজনৈতিক চাপের কারণে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। এভাবে ২০১১, ১২ ও বর্তমান বছরে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে একাধিকবার নোটিস দেয়া হলেও অবৈধ স্থাপনা সরানো হয়নি। শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসন র্যাব-পুলিশ ও দমকল ইউনিটের সাহায্য নিয়ে রবিবার সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে মাঠে নামে। কোন প্রকার বাধাবিপত্তি ছাড়াই জেলা প্রশাসন সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সাড়ে ৮ কোটি টাকা মূল্যের ৪০ শতাংশ জমি নিজেদের দখলে নিতে সক্ষম হয়।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, সরকার উন্নয়নের কাজে জমি নিলে তাদের কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু ঐ জমি উদ্ধার করে অন্য কাউকে লীজ দেয়া হলে তা তারা মেনে নিবে না। জেলা প্রশাসন উদ্ধারকৃত জমি ভূমিদস্যুদের মাঝে লীজ প্রদান করলে নগরবাসীকে সাথে নিয়ে বৃহত্ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুর রহমান জানান, অবৈধ দখলকারীদের স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য ২০১০ সাল থেকে নোটিস দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কোনভাবে স্থাপনা সরায়নি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে জমি দখলে নিয়েছি।