কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:১১
জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনেই বহুল আলোচিত গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধনী) আইন-২০১৩ পাস হচ্ছে। এ আইনের আওতায় বিশেষ এই ব্যাংকটিকে সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নিজেই সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন। তবে সরকারের বর্তমান মেয়াদের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন আইন-২০১৩ পাস করা সম্ভব হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, এই মেয়াদে আমরা আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত করে যাবো। সোমবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি জানান, আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধনী) আইনের খসড়া উপস্থাপন করা হবে। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে এটি পাসের জন্য উত্থাপন করা হবে সংসদে। গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশকে নিয়মিত আইনে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ‘খুব বেশি’ পরিবর্তন করা হবে না বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি নতুন আইনে বেশি চেঞ্জ নেই। ইট উইল কাম আন্ডার দি কন্ট্রোল অব বাংলাদেশ ব্যাংক।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আগে গ্রামীণ ব্যাংক পর্ষদের ৯ জন পরিচালকই এর এমডি মুহাম্মদ ইউনূস ‘ঠিক করে দিতেন’। এখন পরিচালক নিয়োগ হবে বিধিমালা মেনে। এটা চূড়ান্ত করে ফেলেছি। এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংককে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে) দেয়া হবে।
গতকাল সচিবালয়ে দ্য ইনস্টিটিউট অফ কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্টস্ অফ বাংলাদেশ-এর নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিবেদন আইনের খসড়াটি বর্তমানে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সরকারের বর্তমান মেয়াদের বাকি স্বল্প সময়ের মধ্যে আইনটি পাস করা সম্ভব হবে না। তবে আমরা এটি চূড়ান্ত করে যাবো।
বৈঠকে দ্য ইনস্টিটিউট অফ কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্টস্ অফ বাংলাদেশ-এর সভাপতি এ কে এম দেলোয়ার হুসাইন বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি দেশে একটি আর্থিক প্রতিবেদন আইন হোক। ১৯৯৯ সালে এ ব্যাপারে সরকারের কাছে আমরা একটা প্রস্তাবও দিয়েছিলাম। তখন দ্য ইনস্টিটিউট অফ চ্যাটার্ড একাউন্টস্ অফ বাংলাদেশ আমাদের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল। অথচ দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য এই আইন খুবই দরকার।
এরআগে অর্থমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে দ্য ইনস্টিটিউট অফ চ্যাটার্ড একাউন্টস্ অফ বাংলাদেশ (আইসিএবি)-এর সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, প্রস্তাবিত ফাইন্যান্সিয়াল রিপোটিং আইনে কাউন্সিলের কর্মবিভাগকে মানদন্ড নির্ধারণী, আর্থিক প্রতিবেদন পরিবীক্ষণ, নিরীক্ষা চর্চা পুনরীক্ষণ ও প্রয়োগকারী বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। আইসিএবি আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুসারে এসব বিভাগের আওতাভুক্ত কার্যাবলী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সুনামের সাথে সম্পাদন করে আসছে।