বহুল আলোচিত আরপিও বিল সংসদে উত্থাপন

আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বহুল আলোচিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের জন্য ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্যা পিপল (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০১৩’ নামের বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। সংবিধানের পনেরতম সংশোধনীর সাথে সামঞ্জস্য রেখে এ বিলটি আরো অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ ব্যয় ১৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। সে সাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার করা হয়েছে। তবে দলীয় প্রধানদের নির্বাচনী ভ্রমণ ব্যয় এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। এছাড়াও বিলে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্তদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলে ব্যক্তির অনুদান প্রদান করার সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। আর রাজনৈতিক দলে কোন কোম্পানি বা সংস্থার অনুদান সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এই অংক আগে ছিলো ২৫ লাখ টাকা। এছাড়াও বিলে নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজন মাফিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলির নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও সর্বাধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংবিধানের পনেরতম সংশোধনীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই বিধান যুক্ত করা হয়েছে। আগে সিইসিসহ অনির্দিষ্ট সংখ্যক নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিধান ছিলো। চলতি অধিবেশনেই এই বিলটি পাস করার কথা রয়েছে।