ঈদ সামনে রেখে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বাড়ছে
উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৫
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা বাড়ছে। এদের অধিকাংশই ভিক্ষুক শ্রেণীর। বিজিবি সদস্যরা অনেককে আটক করে খাদ্য ও মানবিক সেবা দিয়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠালেও তারা ফের ভিন্ন পথে অনুপ্রবেশ করছে বলে জানা গেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে চার শতাধিক রোহিঙ্গাকে পুশব্যাক করা হয়েছে। উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বালুখালী, পালংখালী, ঘুমধুম, তুমব্রু পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করা প্রায় চার শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল খালিদ হাসান।
স্থানীয় কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত কয়েকজন রোহিঙ্গার সাথে আলাপ করে জানা যায়, গত বছরের জুন থেকে মিয়ানমারে কয়েক দফা সামপ্রদায়িক দাঙ্গা ঘটেছে। যে কারণে সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলমানরা ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি স্বাধীনভাবে পালন করতে পারেন না। তাই ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের সময় অধিকাংশ রোহিঙ্গা এখানে চলে আসার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠে।
ক্যাম্প কমিটির সেক্রেটারী রাকিবুল্লাহ জানান, বিশেষ করে মংডু, বুচিডং ও তার আশেপাশের এলাকাগুলোতে বসবাসরত দরিদ্র রোহিঙ্গারা ঈদের আগে যাকাত ও দান-খয়রাতের টাকা রোজগারের আশায় বাংলাদেশে চলে আসে। তবে কিছুদিন পর তারা আবার মিয়ানমারে ফিরে যায়।
এছাড়া বর্তমান সৌদি সরকার রোহিঙ্গাদের আকামা প্রদান করছে-এমন খবরে মিয়ানমারে বসবাসরত রোহিঙ্গারা তত্পর হয়ে উঠেছে যে কোন উপায়ে এখানে ছুটে আসার জন্য। এসব রোহিঙ্গা এখানে অবস্থান নিয়ে নানা কৌশলে স্থানীয় দালাল-ফড়িয়াদের মাধ্যমে জাল পাসপোর্ট তৈরি করে থাকে। বর্তমানে সৌদি আরবে যাওয়ার অপেক্ষায় এমন শত শত রোহিঙ্গা ওপারে সীমান্ত এলাকায় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সীমান্তরক্ষীদের ছুটি ও ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে এসব রোহিঙ্গা যে কোন সময়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বিজিবি সদস্যরা জানান, ঈদ উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় পাহারা আরো জোরদার করার নির্দেশ রয়েছে। তাই এ সময়ে তেমন একটা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটবে না বলেই তারা আশা করছেন।