ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন যাদের...
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:২৯
সরকারি এবং বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা কিছুদিন পরেই। ভর্তিযুদ্ধের দামামা বাজছে চারদিকে। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন যাদের চোখে তাদেরতো বসে থাকলে চলবে না। পূর্ণ প্রস্তুতি নেয়াটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ মাধ্যমিকের পরের সময়টা বড় কঠিন। সিদ্ধান্ত নিতে হয় স্থির হয়ে। মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দেয়াটা কঠিন কিছু না। আসল কথা সময়টা সঠিকভাবে কাজে লাগানো।
পরীক্ষার খুঁটিনাটি: মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় মোট নম্বর ২০০। এসএসসির জিপিএ এর ৮ গুণ এবং এইচএসসির ১২ গুণ যোগ করে মোট ১০০ এবং বাকি ১০০ এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হয়। প্রতিটি প্রশ্নের নম্বর ১। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা যায় ০.২৫ নম্বর। জীববিজ্ঞান থেকে ৩০ নম্বরের, পদার্থ বিজ্ঞান থেকে ২০, রসায়ন থেকে ২৫, ইংরেজি থেকে ১৫ ও সাধারণ জ্ঞান থেকে ১০ নম্বরসহ মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়।
যোগ্যতা ও সময়: গত বছরের নিয়ম অনুসারে যে সকল শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় মোট জিপিএ ৮.০ পেয়েছেন তারাই কেবল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। তবে উভয় পরীক্ষায় জীববিজ্ঞান থাকা আবশ্যক এবং জীববিজ্ঞানে ন্যূনতম ৩.০০ পেতে হবে। কেবলমাত্র ২০১২ এবং ১৩ সালে এইচএসসিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই আবেদন করতে পারবে। এ বছরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৪ অক্টোবর। সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে মোট ৮ হাজার ৬৯৩টি আসন রয়েছে।
ভর্তি প্রস্তুতি: ভর্তি পরীক্ষার আগে পূর্ণ প্রস্তুতি নেয়াটা খুব জরুরি। কারণ মেডিক্যালের সিলেবাস বিশাল। তবে অবশ্যই জীববিজ্ঞান, রসায়ন এবং পদার্থের মোট ৬টি বইয়ের খুঁটিনাটি মাথায় রাখতে হবে। ভালো প্রস্তুতির জন্য দৈনিক ৮ থেকে ১৫ ঘণ্টা পড়ে সিলেবাস শেষ করা ভালো। যাতে পরে রিভিশন দেয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। পরীক্ষার সময় স্টপ ওয়াচ কিংবা ঘড়ি সঙ্গে নিয়ে যাবেন।
যে সব বই পড়তে হবে: মেডিক্যালে যারা পরীক্ষা দিচ্ছেন তারা কোন বই পড়বেন এ নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। কারণ এক একটা বিষয়ে একাধিক লেখকের বই থাকে। এ জন্য বিচলিত না হয়ে বরং যে কোন একজন লেখকের বই ভালোভাবে পড়বেন। তবে আবুল হাসান স্যারের উদ্ভিদবিজ্ঞান, আজমল স্যারের প্রাণিবিজ্ঞান, তোফাজ্জল স্যারের পদার্থ ১ম এবং ২য়, কবির স্যার অথবা নাগ নাথ স্যারের রসায়ন ১ম পড়তে পারেন। এছাড়া বিষয় ভিত্তিক প্রস্তুতির কিছু পরামর্শ দেয়া হলো।
সাধারণ জ্ঞান: নিয়মিত দেশ ও দেশের বাইরের খবর রাখুন। প্রয়োজনে কিরণের বাংলাদেশ বিষয়াবলি এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি পড়তে পারেন। এছাড়া কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সও আপনাকে সাহায্য করতে পারে।
গাণিতিক সমস্যা: আগে করে আসা পদার্থ এবং রসায়নের গাণিতিক সমস্যাগুলো বারবার সমাধান করতে থাকুন। অনুশীলনের ওপরেই নির্ভর করবে আপনার গাণিতিক সমস্যা সমাধানের দক্ষতা।
ইংরেজি: ইংরেজির জন্য গ্রামারে আপনাকে দক্ষ হতে হবে। তবে বিগত ১০ বছরের মেডিক্যাল ও ডেন্টালের প্রশ্নগুলোর সমাধান করে আপনার প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে পারেন।
বিষয়ভিত্তিক বই: জীববিজ্ঞান ১ম ও ২য় পত্র, পদার্থ ১ম ও ২য় পত্র, রসায়ন ১ম ও ২য় পত্র এই ৬টি বই যত বেশি রিভিশন দিতে পারবেন, ততই পঠিত বিষয়গুলো আপনার নখদর্পণে চলে আসবে। তবে হতাশ হলে চলবে না। আজীবনের সাফল্যের জন্য মাত্র কয়েকটা দিন কষ্ট করলে এমন কিছু হবে না।
মানসিক দৃঢ়তা: লক্ষ্য যদি অটুট থাকে তবে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অবশ্যই পাওয়া সম্ভব। দৃঢ় মানসিকতা জয়ের পথ উন্মুক্ত করে দেয়। ব্যর্থ হতে পারি ভেবে হতাশ হলে চলবে না। পরিশ্রম করলে তা বৃথা যায় না কোনদিন। পরীক্ষার আগে এবং পরীক্ষার সময় মাথা ঠাণ্ডা রাখুন। ফলাফল সময়ই বলে দেবে।
ছবি: অনির্বাণ রায়