ঈশ্বরদী মহিলা কলেজ সরকারিকরণ সর্বস্তরের মানুষের দাবি
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:২১
ঈশ্বরদীর সুনামধন্য একমাত্র উচ্চতর নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঈশ্বরদী মহিলা কলেজ সরকারিকরণের জন্য স্থানীয় সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর নিকট দাবি জানিয়েছেন। এই দাবিতে ইতিমধ্যেই কলেজের শিক্ষক, ছাত্রী, গভর্নিং বডি, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, চিকিত্সক, বিজ্ঞানীসহ সর্বস্তরের মানুষ মানব বন্ধন, মত বিনিময়, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।
এলাকার মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৮৯ সালে তত্কালীন সংসদ সদস্য মনজুর রহমান বিশ্বাস স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। কলেজ প্রতিষ্ঠার পর হতে এলাকায় উচ্চতর নারী শিক্ষা সম্প্রসারণে কলেজের শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে শিক্ষার্থীরা ভাল অর্জন করায় কলেজটি বিগত কয়েক বছর যাবত্ পাবনা জেলার মহিলা কলেজগুলোর মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে। তাছাড়া রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সেরা ২০টি কলেজের মধ্যে ঈশ্বরদী মহিলা কলেজ স্থান অর্জন করছে। এই কলেজের ছাত্রীরা ইতিমধ্যেই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, শিক্ষকতাসহ প্রশাসনের ক্যাডার সার্ভিসে যোগ দিয়ে স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানা যায়। এলাকার এমপি ও গভর্নিং বডির সভাপতি শামসুর রহমান শরীফের প্রচেষ্টায় বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে এই কলেজে সকল শাখায় স্নাতক শ্রেণী খোলা হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈশ্বরদী আলহাজ্ব মিলের জনসভায় ছাত্রীদের হোস্টেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে বিএনপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রায় ১২শ’ ছাত্রী অধ্যুষিত এই কলেজে সম্প্রতি অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। এমপি’র প্রচেষ্টায় নতুন আরেকটি ভবনের কাজ শুরু হচ্ছে। পর্যাপ্ত বিষয়ের অনুমোদন থাকায় ছাত্রীরা নানামুখী শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে। জানা যায়, শিক্ষাদানের সকল সুযোগ-সুবিধা থাকলেও নিজস্ব তহবিলের অপ্রতুলতার কারণে বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার এবং কম্পিউটার ল্যাবসহ আরও কিছু মৌলিক বিষয়ের ঘাটতি রয়েছে। এব্যাপারে অধ্যক্ষ আফরোজা বেগম জানান, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু থাকায় ছাত্রীদের বেতন দিতে হয় না। এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে স্নাতক ও অনার্সের ছাত্রীদের নিকট হতে নামমাত্র বেতন নেয়া হয়। যে কারণে তহবিল অপ্রতুল। সরকারিকরণ হলে নিয়মিত বরাদ্দ মঞ্জুর হয়। তখন কোন সমস্যাই থাকে না। তাছাড়া মাস্টার্স কোর্স চালু করাও সহজ হবে। স্থানীয় লোকজন বাইরে না পাঠিয়ে স্বল্প খরচে ঈশ্বরদীতেই মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করাতে সক্ষম হবে। এতে ঝরে পড়া রোধ হবে।
উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা নুরুজ্জামান বিশ্বাস জানান, মহিলা কলেজ সরকারিকরণের বিষয়ে ঈশ্বরদীর মানুষ আজ একাট্টা। ২রা অক্টোবরের জনসভায় এই বিষয়ে নারী সমাজের অগ্রগতির নায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা তিনি আশা করেন। সরকারিকরণের বিষয়ে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, শীর্ষস্থানীয় মহিলা কলেজ সরকারি হলে কম খরচে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মেয়েরা বাড়ির ভাত খেয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার জন্য আজ ঈশ্বরদীবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।