ফরিদপুরের ডেমড়া ও হাদলের গণহত্যা
ফরিদপুর (পাবনা) সংবাদদাতা \
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:২৬
১৯৭১ সালে পাবনা ফরিদপুর থানা বর্তমানে উপজেলা-ছিল একটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থানা ।তার মধ্যে ডেমড়া ও হাদল গ্রাম ছিল আরও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা । ১৯৭১ সালে ১০ই এপ্রিল পাবনা শহরসহ সকল এলাকা পাকহানাদার বাহিনীর দখলে চলে যায়। শহরের হিন্দু মুসলমান সকল সম্প্রদায়ের মানুষ প্রাণ ভয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রামে আশ্রয় গ্রহণ করে। নিজেদের বাড়ি, সুখ স্বাচ্ছন্দ ফেলে প্রত্যন্ত্ম এ সকল গ্রামে আশ্রয় নেয়া এসব অসহায় মানুষ ও পশ্চিমা হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় সাহায্যকারী হায়নাদের হিংস্র থাবা থেকে রেহাই পায়নি। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ পাবনার গ্রাম ডেমড়া ও হাদল গ্রামের গণহত্যা। দিনটি ছিল ৩০শে বৈশাখ ১৩৭৭(১৯৭১ সাল) দিনের শেষে রাতে গ্রামবাসি যখন ঘুমিয়ে ছিল সে অবস্থায় পাবনা থেকে বাঘাবাড়ি হয়ে নৌকা যোগে প্রত্যন্ত ডেমড়া গ্রামে হানাদার বাহিনী এসে ঘিরে নেয়। ফজরের আযানের সময় গ্রামবাসির ঘুম ভাঙ্গে মেশিনগান, মর্টার, রকেট লাঞ্চারের বিকট আওয়াজ এ অবস্থায় এলাকার মানুসষ দিক বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে জীবন রক্ষার জন্য এদিক সেদিক দৌড়াতে গিয়ে দেখে সব রাসত্মা বন্ধ করে পাকসেনা ও রাজাকার আল বদররা দাাঁড়িয়ে আছে। তারা নির্বিচারে পাখির মত গুলি করে মানুষ হত্যা করে । এতে নিরিহ ছেলে মেয়ে , যুবক যবতী, বৃদ্ধ,বৃদ্ধা নির্বিশেষে কাউকে বাদ দেয়া হয়নি। ডেমড়া গ্রামে আশ্রয় গ্রহণকারী ও ডেমড়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় ১৫‘শ লোককে প্রাণ দিতে হয়েছিল কয়েক ঘন্টার মধ্যে । দু’একজন যারা প্রাণ ভয়ে ছুটে পালাচ্ছিল হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা তাদেরকে ধরে এনে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এতে ডেমড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দাই ছিল পাঁচ শতাধিক । অন্যান্যরা ছিল আশ্রিত। নিহতদের মধ্যে ফরিদপুরের বনওয়ারী নগরের জমিদার বংশের ৮ জন ছিল। এরা হলো মাখনলাল রায়, বলরাম রায়, জ্ঞানেন্দ্ররায় ,জিতেন্দ্ররায়, গোরা রায়, রামজগন্না্থ রায়, বাসুরায়, ঋষিকেশ রায়, এছাড়া ফটিক চন্দ্র ঘোষ, সুকলাল ঘোষ, ফকির চন্দ্র ঘোষ, জগদ্বিশ চন্দ্র কুন্ডু, জামিনিমোহন পাল, লালবিহারী পাল হারান প্রামানিক, ফজর আলী প্রাং, মোহিন শেখ, নীরেন্দ্রনাথ রায় , মসলেম ফকির, লড়্গন হালদার তার শিশুপুত্র ফটিক হালদার সহ প্রায় ৫০জন কে সকাল সোয়া আটটার দিকে হানাদার বাহিনী ডেমড়া গ্রামের পশ্চিম পাশে রেকাত খাঁর বাড়ি সংলগ্ন বর্তমানে ডেমড়া আতাইকুল রোড। ঐদিন সকাল থেকে দুপুর ১ঘটিকা পর্যন্ত্ম চলে নির্বিচারে হত্যা, লুণ্ঠন ও গনধর্ষণ। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় ঘরবাড়ী এমনকি ১০/১২জন নারী/পুরম্নষকে জীবন্ত্ম পুড়িয়ে মারা হয়। পাবনা ফিরে যাবার সময় নীলা ও শীলা নামের দুই যুবতীকে ধরেনিয়ে যায়। পড়ে আর তাদের খোজ পাওয়া যায়নি। ঐদিনে ঘটনা দুএকজন স্তাড়্গী এমনকি আহত অবস্থায় শরীরের মধ্যে হানাদারদের গুলি নিয়ে বেঁচে আছে দুএক জন। প্রতিবছর এইদিনে এই নির্মম গণহত্যা দিবস পালন করা হয়। গ্রাম বাসীদের দাবির প্রেড়্গিতে ডেমড়া বাসস্ট্যান্ডে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।