উখিয়ায় কোটি টাকার কাঠ খোলা আকাশের নিচে

উখিয়ায় বালুখালী বনবিটের আওতাধীন সামাজিক বনায়নের কোটি টাকার কাঠ খোলা আকাশের নিচে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপকারভোগী সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ যথাসময়ে নিলামে বিক্রি না করে আইনী জটিলতার নামে কালক্ষেপণ করায় মূল্যবান কাঠগুলো বিক্রয় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে বনকর্তারা বলছেন, এসব কাঠ নিলামে বিক্রয় করা হয়েছে। তবে নিলাম ডাককারী প্রতিষ্ঠানগুলো টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় কাঠ সরবরাহ নিতে পারছে না। যে কারণে কাঠগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় উপকারভোগীদের সামাজিক বনায়ন সৃজন নিয়ে নিরুত্সাহ হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, সরকারি বনাঞ্চলের গাছ লুটপাট ও বনভূমি বেদখল হয়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা করে তত্কালীন সরকার ১৯৮৮ সালে সারাদেশব্যাপী সামাজিক বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বন সম্পদ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯২ সালে এ উপজেলার ৮টি বনবিটের আওতাধীন প্রায় সাড়ে ৭শত হেক্টর বনভূমিতে সামাজিক বনায়ন সৃজন করে সুফলভোগী সদস্যরা ব্যাপক সফলতা অর্জন করে। উখিয়ার ঘাট বনবিটের আওতাধীন ২০০৫ সালে সৃজন করা সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী সমিতির সভাপতি ছৈয়দ করিম দুদু অভিযোগ করেন, বিগত ৫ মাস আগে ৪০ একর সামাজিক বনায়নের থিনিং করা গাছগুলো ডিপো করে মজুদ রাখা হলেও ওইসব কাঠ আইনী জটিলতার নামে যথাসময়ে নিলামে বিক্রি করা হয়নি। যার ফলে কোটি টাকার কাঠ পচে গলে নষ্ট হয়ে বিক্রয় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে উপকারভোগী হতদরিদ্র পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মো: ইব্রাহিম জানান, অত্র অফিসের যোগদান করার মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে অনেক সমস্যার মুখাপেক্ষী হতে হয়েছে। তথাপিও ওই কাঠগুলো যারা নিলামে ক্রয় করেছে, তাদেরকে খেলাপি গণ্য করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।