যুক্তরাষ্ট্রের সব সেবা খাত বন্ধ
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০১৩, ২২:১৯
আগামী অর্থবছরের বাজেটে অর্থ বরাদ্দে কংগ্রেসে সরকার ও বিরোধীদের অনৈক্যের কারণে বন্ধ হয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সেবা খাত। এর ফলে দেশটির সাত লাখের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ভাতা বন্ধ হয়ে গেল। সতের বছর পর দেশটির অর্থনীতি কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়লো। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল বলেছেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতায় ঘাটতি সৃষ্টি হবে। খবর বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন এবং এএফপি’র।
মার্কিন সরকারের তহবিল থেকে সমস্ত অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার অর্থাত্ সোমবার মধ্যরাতের মাত্র ১০ মিনিট আগে হোয়াইট হাউসের বাজেট দপ্তর এক আদেশে বিভিন্ন সরকারি বিভাগ বন্ধের আদেশ দেয়। ফলে মধ্যরাতের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের সব সেবা খাত বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের গোটা সরকার ব্যবস্থাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। জাতীয় পার্ক, পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা, মহাকাশ গবেষণা সংস্থাসহ মার্কিন সরকারের বহু সেবা খাত বন্ধ হয়ে গেছে। মধ্যরাতের পর অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা বিনা বেতনে কাজ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দপ্তর ত্যাগ করেন। প্রতিরক্ষা বাহিনীর বেতন-ভাতা বন্ধ ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পৃথক একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্বাস্থ্য সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ এখন বিরোধী রিপাবলিকানদের হাতে। ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত পরবর্তী অর্থবছরের বরাদ্দ অনুমোদনের শেষ সময় ছিল। এদিন প্রতিনিধি পরিষদ ওবামার স্বাস্থ্যসেবা আইনের কার্যকারিতা এক বছরের জন্য পিছিয়ে দেয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করে। স্বাস্থ্যসেবা আইনের বিরোধী রিপাবলিকান দলের দাবি ছিল, সিনেটে স্বাস্থ্যসেবা আইন কার্যক্রম পিছিয়ে দেয়ার ব্যাপারটি অনুমোদন করা হোক। এর পরই তারা কেন্দ্রীয় সেবা খাতে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে সমঝোতা করবে তারা। তবে প্রেসিডেন্ট ওবামাসহ সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা স্বাস্থ্যসেবা আইন কার্যক্রম নিয়ে অনড় অবস্থানে অটল থাকেন। এরপর দিনভর কংগ্রেসে নানা নাটকীয়তা ও উত্তেজনার পর সব ধরনের সমঝোতার সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়। ১৯৯৫-১৯৯৬ সালের পর থেকে এই প্রথম সরকারি কার্যক্রমে স্থবিরতার ঘটনা ঘটলো। বারাক ওবামা এক ভিডিও চিত্রে মার্কিন সেনা বাহিনীর উদ্দেশে বলেন, তাদের কংগ্রেসের কাছ থেকে আরো ভালো কিছু প্রাপ্য ছিল। তিনি শিগগিরই এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি দেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল সপ্তাহব্যাপী দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান সফর করছেন। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন সভায় তিনি বাজেটের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন। এই সংকট দূর করা না গেলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে নানা শঙ্কা দেখা দেবে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।