যশোর আওয়ামী লীগে অনৈক্যের সুর তীব্র
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০১৩, ২২:২১
সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ সময়ে এসে যশোরে আওয়ামী লীগে অনৈক্যের সুর আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির বড় দুটি শোডাউন করেছে দলের দুটি পক্ষ। এর একদিকে নেতৃত্বে রয়েছেন সদর আসনের সংসদ সদস্য খালেদুর রহমান টিটো। অন্যদিকে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে ঘিরে গতকাল দুপুর থেকে দুইপক্ষই বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও দেশাত্মবোধক সংগীত প্রচার করে। শহরের দড়াটানা মোড়ে দুইপক্ষের মাইক মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় শহরবাসীকে এ নিয়ে মুখরোচক আলোচনা করতে দেখা যায়।
মহাজোট সরকারের প্রায় শুরু থেকেই যশোরে আওয়ামী লীগ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন খালেদুর রহমান টিটো। তখন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার দলীয় প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনী প্রচারাভিযান চালান। কিন্তু সরকারের মেয়াদের শুরু থেকেই কর্তৃত্বের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন দুই নেতা। এর চূড়ান্ত পরিণতিতে মহাজোট সরকারের মেয়াদের শেষ সময়েও এখানে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি নিয়ে একমঞ্চে হাজির হতে পারেনি।
সরকারি এমএম কলেজ ছাত্রলীগের ব্যানারে এমপি পক্ষীয়রা ছাত্র সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে সপ্তাহকাল ধরে প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। সমাবেশের মাইকিংয়ে এমপি খালেদুর রহমান টিটো প্রধান অতিথি এবং ছাত্রনেতা নিয়াজ মাহমুদ শাহীন সভাপতিত্ব করবেন বলে প্রচার করা হয়। গতকাল বেলা তিনটায় টাউন হল ময়দানে যথারীতি এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে ছাত্র সমাবেশের ভেন্যু থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে শহরের চিত্রা মোড়ে মঙ্গলবার একই সময় আনন্দ মিছিল নামে পৃথক সমাবেশ করবে বলে আগের দিন সোমবার ঘোষণা দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার এতে নেতৃত্ব দেবেন বলেও প্রচার করা হয়। দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে অনৈক্য দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে।