টিআই’র বৈশ্বিক দুর্নীতি প্রতিবেদন :শিক্ষা প্রকাশ

বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে দুর্নীতি কমেছে

দেশে সামগ্রিক শিক্ষাখাতে দুর্নীতি কমেছে এবং প্রতিবছর এ হার কমছে। শিক্ষাখাতে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে নেপাল ও মালদ্বীপ ছাড়া অন্য সবক’টি দেশেই বাংলাদেশের তুলনায় জনগণের ঘুষ দেয়ার অভিজ্ঞতা বেশি। বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে জনগণের ঘুষ দেয়ার হার ১২ শতাংশ। পক্ষান্তরে সবচেয়ে বেশি ঘুষ দিতে হয় ভারতে- ৪৮ শতাংশ। পকিস্তানে এর পরিমাণ ১৬ শতাংশ এবং শ্রীলংকায় ১৩ শতাংশ। দুর্নীতি ইস্যুতে কাজ করা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)-এর ‘বৈশ্বিক দুর্নীতি প্রতিবেদন:শিক্ষা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এও বলেছে যে, আইন অনুযায়ী প্রথম শ্রেণীতে বিনামূল্যে ভর্তি হওয়ার কথা থাকলেও ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর ভর্তির সময়ে নিয়ম বহির্ভূত অর্থ দিতে হয়। আবার পাঠ্যবই পেতে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত অর্থ লেনদেন হয়। উপবৃত্তির টাকা পেতে ১৯ শতাংশ ক্ষেত্রে ঘুষ দিতে হয়। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে এই প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটির বাংলাদেশ শাখা টিআইবি। গতকাল বিশ্বের ১০৭টি দেশে একযোগে এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু উপস্থাপনকালে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গড়ে শিক্ষাক্ষেত্রে যেখানে জনগণের ঘুষ দেয়ার হার ১৭ শতাংশ, বাংলাদেশে তার পরিমাণ ১২ শতাংশ। তবে এতে সন্তুষ্ট না হয়ে এ বিষয়ে আরো বেশি সোচ্চার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, টিআইবির ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. সুমাইয়া খায়ের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ বছরের প্রথম দিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) ‘গ্লোবাল করাপশন ব্যারোমিটার-২০১৩’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই ব্যারোমিটার অনুযায়ী, বাংলাদেশের ১৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত। তিনি বলেন, টিআই-এর গ্লোবাল করাপশন ব্যারোমিটার-২০০৭ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৯ শতাংশ মানুষকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খাতে ঘুষ দিতে হতো। ২০১০ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৫ শতাংশে। ২০১২ সালে তা কমে হয় ১৪.৮ শতাংশ এবং এ বছর তা কমে হয়েছে ১২ শতাংশ। দুর্নীতির কারণে প্রাথমিক শিক্ষায় বাত্সরিক ৭০.৩ কোটি টাকা (৯ মিলিয়ন ডলার) পরিমাণ ক্ষতি হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরো বলেন, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী বেশ বেগবান। তার চেষ্টায় দুর্নীতি অনেক কমেছে। এ ছাড়া বিনামূল্যে বই বিতরণ ও নকল প্রতিরোধ বেশ কার্যকর হয়েছে। তিনি বলেন, নকল করার প্রবণতাও কমেছে। শিক্ষাখাতে দুর্নীতি দূরীকরণে রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞা, সদিচ্ছা এবং এ খাতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ২০১২ সালে শিক্ষাসেবা গ্রহণকালে প্রতি ৫ জনের একজন ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছিল এবং গরিবের ক্ষেত্রে এই হার প্রতি তিনজনে একজন। বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ শিক্ষাখাতে একটি অভাবনীয় উন্নয়ন উল্লেখ করে অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম বলেন, ২৩ কোটি বই বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। পহেলা জানুয়ারি বই উত্সবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেয়া হচ্ছে। শিক্ষাখাতে দুর্নীতি কমার প্রবণতা খুবই ইতিবাচক হলেও এ খাতে দুর্নীতি মেনে নেয়া যায় না।