‘দ্য পজেশন অব হান্না গ্রেস’ ছবিটির গল্প পুলিশের চাকরি ছেড়ে শহরের মর্গে সদ্য চাকরি নেওয়া এক তরুণী মেগান রিডের ভয়ংকর কিছু অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। হরর কাহিনির এ হলিউডি সিনেমাটিতে দেখা যাবে, মর্গে স্থানীয় কবরস্থান থেকে একটি অবিকৃত মৃতদেহ আনা হয়। অশুভ আত্মার সঙ্গে মোকাবিলা করতে গিয়ে মৃত্যুবরণকারী তরুণী হান্না গ্রেসের সেই মৃতদেহটি মর্গে রাখার পর অদ্ভুত ও ভয়ংকর ঘটনা ঘটতে থাকে। যা সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তা মেগান রিডের চোখের সামনে ঘটতে থাকে। হান্না গ্রেস মৃত্যুবরণ করলেও তার দেহের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছে দুষ্ট আত্মা। যার ভয়ংকর রূপ হঠাত্ করে দেখা যায় মর্গের মধ্যে। এ ধরনের ঘটনা মেগান রিডকে অতিষ্ঠ করে তোলে। দুর্বিষহ হয়ে ওঠে তার জীবন। এমন গা ছম ছম করা গল্পের হরর সিনেমা ‘দ্য পজেশন অব হান্না গ্রেস’ মুক্তির আগেই দর্শকদের আগ্রহী করে তুলেছে। কয়েকমাস আগে যেমনটি ঘটেছিল আরেকটি আলোচিত হরর মুভি ‘দ্য নান’-এর মুক্তির সময়। এবার ‘দ্য পজেশন অব হান্না গ্রেস’ ছবিটি হরর মুভিপ্রেমী দর্শকদের জন্য ভিন্ন কিছু চমক নিয়ে আসছে। ছবিটির প্রধান চরিত্র মর্গে দায়িত্ব পালনকারী এক তরুণী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মেগান রিড চরিত্রে অভিনয় করেছেন শে মিশেল। কানাডিয়ান এই অভিনেত্রী একাধারে একজন মডেল, লেখিকা ও উদ্যোক্তা। ৩১ বছর বয়সী শে মিশেলের জন্ম কানাডার ওন্টারিওতে। তার বাবা একজন স্কটিশ হলেও মা একজন ফিলিপিনো। শে মিশেলের চেহারায় মায়ের ফিলিপিনো ভাবটা কিছু লক্ষ করা যায়। খুব ছোটবেলা থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উত্সাহী ছিলেন মিশেল। অভিভাবকদের জানিয়ে দিয়েছিলেন বড় হয়ে শিল্প-সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট ক্যারিয়ার গড়ে তুলবেন। পাঁচ বছর বয়সে নাচের ক্লাসে ভর্তি হন। ক্লাসের সহপাঠীদের সাথে আশপাশের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত নাচের প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নেওয়াটা ছিল তার কাজ। মিশেলের যখন ১০ বছর বয়স, তখন তাদের পুরো পরিবার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ওয়েস্ট ভ্যানকুভারে পাড়ি জমায়। সেখানে যাওয়ার এক বছরের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক মডেলিং এজেন্সির আহ্বানে টিন মডেল খোঁজার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নির্বাচিত হন তিনি। রক্সিজ সেকেন্ডারি স্কুলে পড়াশোনা শেষে ওয়েস্ট ভ্যানকুভার সেকেন্ডারি স্কুলে ভর্তি হন মিশেল। সেখান থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন। ডাকনাম ‘শে’ হওয়ার পিছনে একটি দারুণ মজার বিষয় রয়েছে। শে মিশেল ছিলেন বিশ্বখ্যাত ল্যাটিন গায়িকা অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজের দারুণ ভক্ত। জেনিফার লোপেজকে যেমন সবাই জে লো বলে ডাকে, তার দেখাদেখি মিশেলের বন্ধুবান্ধবও তাকে শে লো বলে ডাকতে শুরু করেছিল। মডেলিংয়ের কাজে তাকে ব্যাংকক, হংকং, বার্সেলোনায় ছুটতে হয়েছে তখন। এক পর্যায়ে টরেন্টোতে ফিরে অভিনয়ের অধ্যয়নে মনোনিবেশ করেন। অভিনেত্রী হিসেবে প্রথম কাজ করেন কানাডিয়ান টিন ড্রামা সিরিজ ‘ডেগারাস্টি :দ্য নেক্সট জেনারেশন’। এরপর বেশ কিছু সিরিজে ও মিউজিক ভিডিওতে তাকে দেখা যায়। ২০১০ সালে ডিজনির এক্সডি ‘অ্যারোন স্টোন’-এ একজন চিয়ারলিডার ইরিনা ওয়বার-এর ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল তাকে। যা মিশেলকে দর্শকদের কাছে বেশ পরিচিত করে তুলেছিল।