যশোরে রবীন্দ্রময় আন্তর্জাতিক নাট্যোত্সব
আহমেদ সাঈদ বুলবুল, যশোর অফিস
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:০১
রবীন্দ্রময় হয়ে উঠেছে যশোরের আন্তর্জাতিক নাট্য উত্সব। উদ্বোধনী প্রদর্শনী থেকে টানা ৩টি নাটকই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। ‘হূদয়ে বাঙলা নাটক’ স্লোগান বুকে ধারণ করে যশোরে রবিবার থেকে শুরু হয় আন্তর্জাতিক নাট্যোত্সব। যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে ৬ দিনের এ উত্সবে ভারতীয় প্রখ্যাত চলচ্চিত্রশিল্পী ও মঞ্চের খ্যাতনামারা অভিনয়শৈলী প্রদর্শন করছেন। রবিবার নাট্যোত্সব উদ্বোধন করেন যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য খালেদুর রহমান টিটো।
বিবর্তন যশোর, তির্যক চট্টগ্রাম ও দৃষ্টিপাত ঢাকা যৌথভাবে এ আন্তর্জাতিক নাট্যোত্সবের আয়োজক। উত্সবে আয়োজকরা ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতনামা নাট্যদল ‘ষড়ভূজ’ ও ‘প্রাচ্য কোলকাতা’র স্বনামধন্য নাট্যশিল্পীবৃন্দ তাদের প্রযোজনা নিয়ে হাজির হচ্ছেন। জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে নাটক শুরু হচ্ছে। প্রবেশ মূল্য ধরা হয়েছে ১শ ও ৫০ টাকা।
রবিবার উদ্বোধনী দিনে বিবর্তন যশোর মঞ্চস্থ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা ও দেবাশীষ ভট্টাচার্যের নির্দেশনায় ‘বিসর্জন’ নাটক। এতে অভিনয় করেন সানোয়ার আলম খান দুলু, আমেনা খাতুন, জাহিদুল ইসলাম যাদু, শেখ জাহিদ, তানজিলা আক্তার জিনি প্রমুখ। সোমবার তির্যক চট্টগ্রাম মঞ্চস্থ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা ও আহমেদ ইকবাল হায়দারের নির্দেশনায় ‘রক্তকরবী’। এতে অভিনয় করেন শায়লা শারমিন, অমিত চক্রবর্তী, রিপন বড়ুয়া, বিভোর দাশ অপূর্ব প্রমুখ। মঙ্গলবার ভারতের ‘ষড়ভূজ’ মঞ্চস্থ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা ও তরুণ প্রধানের নির্দেশনায় ‘ডাকঘর’ নাটক। এ নাটকে অভিনয় করেন খ্যাতনামা অভিনেতা তরুণ প্রধান, সৌরভ দত্ত, মৌলী রায় প্রমুখ। গতকাল বুধবার দৃষ্টিপাত, ঢাকা মঞ্চস্থ করে সফোক্লিসের রচনা আর ড. খন্দকার তাজমি নুরের রূপান্তর ও নির্দেশনায় নাটক ‘রাজা হিমাদ্রী’। এতে অভিনয় করেন তাজমি নুর, আজিজ, বকুল, বর্ষা প্রমুখ।
গত বৃহস্পতিবার প্রাচ্য কোলকাতা মঞ্চস্থ করে শেক্সপিয়রের রচনা আর বিপ্লব বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় ‘রোমিও জুলি’। আগামীকাল শুক্রবার উত্সবের শেষদিনে ব্রাত্য বসু’র রচনা ও বিপ্লব বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় ‘সুপারি কিলার’ নাটক মঞ্চস্থ করবে। নাটক দুটিতে অভিনয় করবেন নাট্যমঞ্চের উজ্জ্বল নক্ষত্র বিপ্লব বন্দোপাধায়, পৌলমী বসু, সুপ্রিয়া দত্ত, অসীম রায় চৌধুরী প্রমুখ।
বিবর্তনের সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু জানান, থিয়েটার কখনোই সীমানা দিয়ে আবদ্ধ ছিল না। দুই বাংলায় আমরা যারা থিয়েটার চর্চার সাথে জড়িয়ে আছি তাদের মধ্যে রয়েছে এক নিবিড় আত্মিক বন্ধন। সকল সীমাবদ্ধতাকে পাশ কাটিয়ে আত্মার টানে আমরা একত্রিত হতে চাই। দুই দেশে আয়োজিত বিভিন্ন নাট্যোত্সব এই বন্ধনকে আরও দৃঢ় করছে। ফলে সুযোগ সৃষ্টি করে নাট্য ভাবনার আদান-প্রদান।