ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু

টিকিট প্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড়ের মধ্যেই গতকাল বুধবার থেকে শুরু হয়েছে ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত সবগুলো আন্ত:নগর ট্রেন ও ঈদ মৌসুমের বিশেষ ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে। বুধবার বিক্রি করা হয়েছে আগামী ১১ অক্টোবর ভ্রমণের টিকিট। গতকাল বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি কাউন্টারের সামনেই টিকিট প্রত্যাশী যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের অনেকেই আগেরদিন রাত থেকে স্টেশনে রয়েছেন। সকাল ৯টা থেকে যথারীতি টিকিট ইস্যু করার পরপরই হঠাত্ কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ত্রুটির জন্য কিছুক্ষণ টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকে। এ সময় অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। অবশ্য অল্পসময়ের মধ্যেই পুনরায় টিকিট বিক্রি শুরু হলে উত্তেজনা থেমে যায়। ঈশ্বরদীর যাত্রী নিয়ামুল আহসান ঢাকা থেকে খুলনাগামী চিত্রা এক্সপ্রেসে টিকিটের জন্য বুধবার সকাল ৭টায় কমলাপুর স্টেশনে উপস্থিত হন। ততক্ষণে কাউন্টারের সামনে বেশ লম্বা লাইন পড়ে যায়। এ কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও শেষ পর্যন্ত তিনি কাঙ্ক্ষিত টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি। লাইনে তার সামনে আরো কয়েকজন যাত্রী অপেক্ষমাণ থাকা অবস্থায়ই কাউন্টার থেকে জানানো হয় যে, সব টিকিট শেষ হয়ে গেছে। অগত্যা মন খারাপ করে ফিরে গেছেন নিয়ামুল। যাওয়ার সময় ইত্তেফাক প্রতিনিধির কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অগ্রিম টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে কাউন্টার থেকে খুব ধীর গতিতে টিকিট ইস্যু করা হয়েছে। এরপর লাইনে আরো বহু মানুষ অপেক্ষমাণ থাকা অবস্থায়ই ঘোষণা দেয়া হয় যে, সব টিকিট শেষ। এটাকে অস্বাভাবিক অভিহিত করে তিনি বলেন, এত দ্রুত সব টিকিট শেষ হওয়ার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। তবে এ ব্যাপারে রেলওয়ের কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার খায়রুল বাশার বলেন, মোট টিকিটের ৬৫ ভাগ বিক্রি করা হচ্ছে কাউন্টার থেকে। সুতরাং বরাদ্দকৃত টিকিট এক পর্যায়ে শেষ হয়ে যাবে- এটাই স্বাভাবিক। তিনি জানান, মোট টিকিটের ৫ শতাংশ রাখা হচ্ছে রেলওয়ে স্টাফ এবং তাদের পোষ্যদের জন্য, ৫ শতাংশ রাখা হচ্ছে ভিআইপিদের জন্য এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে ২৫ ভাগ টিকিট। বাকি ৬৫ ভাগ টিকিট সরাসরি বিক্রি করা হচ্ছে স্টেশনের কাউন্টার থেকে। কমলাপুর স্টেশন থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন রুটের আন্ত:নগর ট্রেনসমূহের গড়ে মোট ১৭ হাজার টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ভ্রমণের দিন আগ্রহী যাত্রীরা কাউন্টার থেকে তাত্ক্ষণিক স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করে দাঁড়িয়ে ভ্রমণের সুযোগ নিতে পারবেন। খায়রুল বাশার আরো জানান, আজ বৃহস্পতিবার সংগৃহীত অগ্রিম টিকিটে ভ্রমণ করা যাবে আগামী ১২ অক্টোবর। এছাড়া ১৩ অক্টোবর ভ্রমণের টিকিট পাওয়া যাবে ৪ অক্টোবর, ১৪ অক্টোবর ভ্রমণের টিকিট ৫ অক্টোবর এবং ১৫ অক্টোবর ভ্রমণের টিকিট মিলবে ৬ অক্টোবর। অন্যদিকে ঈদের পর কর্মস্থলমুখী ফেরত যাত্রীদের ভ্রমণের সুবিধার্থে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট আগামী ৯ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিক্রি করা হবে। ১৮ অক্টোবর ফিরতি যাত্রার টিকিট পাওয়া যাবে ৯ অক্টোবর, ১৯ অক্টোবর যাত্রার টিকিট পাওয়া যাবে ১০ অক্টোবর, ২০ অক্টোবর যাত্রার টিকিট মিলবে ১১ অক্টোবর, ২১ অক্টোবর যাত্রার টিকিট ১২ অক্টোবর এবং ২২ অক্টোবর যাত্রার টিকিট ১৩ অক্টোবর বিক্রি করা হবে। একজন যাত্রীকে সর্বোচ্চ ৪টি আসনের টিকিট দেয়া হবে। বিক্রীত অগ্রিম টিকিট ফেরত নেয়া হবে না। এ সময় অগ্রিম টিকিটের পাশাপাশি চলতি টিকিট বিক্রিরও ব্যবস্থা থাকবে।