একসঙ্গে কাজ করার আহবান জানালেন পাপন

আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি, সাংসদ নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, গতকাল তিনি প্রতিপক্ষের অনেকের ‘মুখোশ উন্মোচন’ করে দেবেন। এরপরের চব্বিশ ঘন্টায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনের পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে। আদালতের নির্দেশ মানা হচ্ছে না, এমন দাবি করে নির্বাচন থেকে সঙ্গীদের নিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন পাপনের প্রতিদ্বন্দ্বী, সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণেই কি না, কাল পাপনের সংবাদ সম্মেলনে ঠিক মুখোশ উন্মোচনের মতো কোনো ব্যাপার ঘটল না। মিরপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পাপন নিজেই বললেন, ব্যক্তি আক্রমণ তিনি করতে চান না। তবে এসব বলেই সাবের হোসেন চৌধুরীদের কাউন্সিলর বিষয়ে তোলা বিভিন্ন অভিযোগের প্রমাণসহ জবাব দিলেন পাপন। সেইসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনের সিংহভাগজুড়ে ক্রিকেটে, তথা ক্রীড়াঙ্গনে জেলা ও বিভাগীয় সংগঠক পরিষদ বা ফোরামের নানা ইতিহাস তিনি তুলে ধরলেন পুরো সংবাদপত্রের কাটিংসহ। তবে সংবাদ সম্মেলন জুড়ে সবসময়ের মতো ব্যক্তি ও সংগঠক সাবের হোসেন চৌধুরীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ রইলেন পাপন এবং পরিষ্কার করে বললেন, ‘সাবের ভাইয়ের সংগঠক হিসেবে যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তার হাত ধরে আমরা ক্রিকেটে অনেক ভালো অর্জন পেয়েছি। তার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বাংলাদেশের ক্রিকেটের দরকার। কিন্তু সেজন্য আমি কিছুতেই সাবের ভাইয়ের আশেপাশে থাকা কতিপয় লোকের সঙ্গে আপোষ করতে পারবো না।’ পাপনের সংবাদ সম্মেলন জুড়েই রইল আসলে এই ‘আশেপাশে থাকা লোক’ বা ফোরামের বিপক্ষে বিভিন্ন অভিযোগ চললো। সেজন্য তিনি ২০০১ সালের বিসিবি নির্বাচনের আগে ফোরামের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে যেসব সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল তা তুলে ধরলেন। এমনকি সে সময় সাবের হোসেন চৌধুরী নিজেও যে ক্রীড়াঙ্গনে ফোরামের আধিপত্যের বিরোধী ছিলেন, তাও দেখালেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন পত্রিকার খবর তুলে ধরে ফুটবলে, হকিতে এবং সর্বশেষ দাবায় ফোরামের ‘নোংরা হস্তক্ষেপ’ হয়েছে বলেও দাবি করলেন পাপন। বিসিবির এডহক কমিটির এই সভাপতির দাবি, তারা শুরু থেকে ফোরামের এসব কাণ্ড-কারখানা বিরোধিতা করছেন এবং ফোরামের মনমতো সংশোধন করা গঠনতন্ত্র পাস হতে দেননি। সে কারণেই আজ ফোরাম তার বিপক্ষে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করছেন পাপন। এমনকি নির্বাচন কমিশনে সর্বশেষ যে কাউন্সিলরশিপগুলো নিয়ে আপত্তি জমা পড়েছিল, সেগুলোকেও এরকম ‘অপপ্রচার ও নোংরামি’ বলে দাবি করেছেন তিনি। এর স্বপক্ষে খুলনা ও জামালপুরের পক্ষে আপত্তি তোলা দুই সংগঠকের জমা দেয়া কাগজপত্র তুলে ধরে পাপন বললেন, এগুলো জাল এবং অন্যায়ভাবে তৈরি! তবে এসব অভিযোগের জবাব দিলেন সাবের হোসেন চৌধুরী। সর্বশেষ যে অভিযোগ তুলে সরে গেছেন, সে ব্যাপারে পরিষ্কার করে কিছু বললেন না পাপন। তিনি বলছেন, ২১ নভেম্বর ও ২৯ নভেম্বর সংক্রান্ত জটিলতাটা কেন হল, তা তিনি পরিষ্কার না। তবে তার দাবি, ২০০৮ সালের অনুমোদনের পর আর একটি অনুমোদিত গঠনতন্ত্রই আছে, ২৯ নভেম্বর সংশোধনী। সেটিই আপিল বিভাগ অনুসরণ করতে বলেছেন বলে বললেন পাপন। এসব নতুন কথা, পুরোনো অভিযোগ, পুরোনো ব্যাখ্যা; সবই রইল। বারবার বলা কথাগুলো বারবার ফিরে ফিরে এলো। এর মধ্যে যেটা পাপন খুব স্মরণযোগ্য কথা বললেন, তা হল সাবের হোসেন চৌধুরীর কাছে উন্মুক্ত আহবান। বিতর্ক, ঝগড়াঝাটি সব পেছনে ফেলে ক্রিকেটের জন্য সব অপপ্রচার ত্যাগ করে একসঙ্গে কাজ করার ডাক দিলেন পাপন, ‘সাবের ভাই যখনই নির্বাচন করতে চেয়েছেন, আমি ওনাকে স্বাগত জানিয়েছি। উনি যে কোনো কারণেই হোক, নির্বাচন করলেন না। কিন্তু আমি বলবো, আমাকে অপছন্দ করতে পারেন, সমস্যা নেই। কিন্তু দেশের ক্রিকেট আছে, এ নিয়ে অপপ্রচার করলে, নির্বাচনে বাধা দিলে দেশের ক্রিকেটেরই ক্ষতি হবে। তাই আমি আপনাকে আহবান জানাচ্ছি, আসুন হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করি।’