বিসিবি গঠনতন্ত্র সংশোধনী মামলা
মামলায় অংশ হতে চান সাবের হোসেন চৌধুরী
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪৯
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন যখন নির্বাচনের ফল অনেকটা নিশ্চিত ধরে নিয়ে গতকাল উপসংহারমূলক সংবাদ সম্মেলন করছেন, অন্যদিকে বসে নেই তার বিরোধী শিবিরও। পাপনের বিরোধী শিবির বলে পরিচিত জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠকদের সংস্থা ফোরাম এবং কয়েকজন ক্লাব সংগঠক নানারকম আইনী তত্পরতার প্রস্তুতি গতকালই শুরু করে দিয়েছেন। বিসিবি সভাপতি পাপন সংবাদ সম্মেলনেই দাবি করলেন, তার বিরোধী পক্ষ নির্বাচনে ৪০ দিনের স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন। এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ব্যাপার যে আদালতে আরও অনেকদূর গড়াবে, সেটা বোঝা গেল সাবের হোসেন চৌধুরীর কথায়। তিনি গতকাল ফোনে নিশ্চিত করলেন যে, উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে বিসিবির গঠনতন্ত্রের সংশোধনী নিয়ে যে মামলা চলছে, তাতে তিনি অংশ নিতে চান।
সাবেক বিসিবি সভাপতি ও সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী নির্বাচন থেকে সরে গেছেন পুরো প্রক্রিয়াটি আদালতের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে। বিসিবির বর্তমান সভাপতি ও সাংসদ নাজমুল হাসান পাপন কাল এই খবরের পরিপূরক হিসেবে বললেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু শুনিনি। তবে ফোনে একজন জানিয়েছেন যে, তারা এই দাবিতে আদালতের কাছে নির্বাচন ৪০ দিনের জন্য স্থগিত করার আবেদন করেছেন। সে রকম কিছু হলে আইসিসির ১৭ তারিখের সভায় একটা বিড়ম্বনাই হবে। কারণ এই মাসের মধ্যেই নির্বাচনের জন্য আইসিসি আমাদের বর্ধিত সময় দিয়েছে।’
সাবের হোসেন চৌধুরীকে ফোনে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি অবশ্য বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘এমন আবেদন কেউ করছেন কি না, আমি জানি না। তবে আমি এমন আবেদন করিনি। কিন্তু যেসব অনিয়ম হয়েছে, তাতে কেউ আবেদন করতে পারেন।’ এর পাশাপাশি বাড়তি তথ্য হিসেবে সাবের হোসেন জানালেন, তিনি আপিল বিভাগে চলমান মামলায় পক্ষ নিতে চান; সেজন্য আদালতে আবেদন করেছেন। উচ্চ আদালতের মূলত গঠনতন্ত্রের সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছিলেন ফোরামের সভাপতি ইউসুফ জামিল বাবু ও সাবেক পরিচালক মোবাশ্বের হোসেন। সে মামলায় সংশোধনী অবৈধ বলে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে রায়ের বিপক্ষে আপিল করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সেই আপিলের শুনানি এখনও শুরু হয়নি। তার আগে আপিল বিভাগ নির্দেশনা দিয়েছেন, সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী নির্বাচন হতে পারে; তবে আপিল বিভাগের রায়ের ওপর সে নির্বাচনের বৈধতা নির্ভর করবে।
সাবের হোসেন চৌধুরী বললেন, ‘এমন কিছু মৌলিক ত্রুটি এখানে রয়ে গেছে যে, আমি নিজে এখানে অংশ নেয়া প্রয়োজন মনে করছি। তাই আমি এই মামলায় একটি পক্ষ হওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করছি।’