পিরোজপুরে তাক লাগানো মাল্টার বাগান

অমলেশ রায়ের মাল্টা বাগানে এখন ফলের সমারোহ। দক্ষিণাঞ্চলের এক গ্রামে নীচু জমির ভেজা মাটিতে মাল্টা চাষের সাফল্য স্বচক্ষে দেখতে ফলন মৌসুমে এখন তার বাগানে মানুষের ভিড়। থোকায় ঝুলে থাকা এক একটি মাল্টা সৌখিন চাষি অমলের জন্য শুধু অর্থকরী ফলই নয়, সীমাহীন ঔত্সুক্য মেটানোর প্রদর্শনীক্ষেত্রও যেন। পিরোজপুর সদর উপজেলার নিভৃত পল্লী পশ্চিম দুর্গাপুরের স্নাতক পাস পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই অমলেশ বর্তমানে একজন ফল চাষি। জেলা শহরে কলেজ রোডের বাসিন্দা এ মানুষটি গৃহশিক্ষকতার ফাঁকে এখন সময় কাটান নিজের করা ফলের বাগানে। গ্রামে বাপ-দাদার ভিটায় চার একর জমিতে সৃষ্ট উঁচু বাগানে বিভিন্ন ফলের চাষ শুরু করেন বছর পাঁচেক আগে। যে বাগানের অর্ধেকটা জুড়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চাষবিরল আমদানি পণ্য লেবু জাতীয় ফল মাল্টার আবাদ। বাকি বাগানেও কমলা, লিচু, আম, পেয়ারা, আমড়া, সফেদা, বরই, জামরুল ইত্যাদি সুস্বাদু উন্নত জাতের ফলের ব্যতিক্রমী ফলন। পাঁচ বছর আগে লাগানো প্রায় ৩৫০টি মাল্টা গাছে ভরা বাগানে প্রতি গাছে গড়ে ৪০টি ফল ধরে আছে। তিন বছর ধরে ধীরে ধীরে ফলন আসা গাছের মধ্যে এবার প্রায় সব গাছেই কম-বেশি ফল এসেছে অমলের বাগানে। গত তিন সপ্তাহে ৩০০ কেজি ফল তুলেছেন, যার বেশিরভাগ বাজারজাত করেছেন প্রতি কেজি ১২০ টাকা দরে। তার আশা, চলতি মৌসুমে যে ফলন আসবে তা দিয়ে গত পাঁচ বছরে মাল্টা চাষে বিনিয়োগ করা পুঁজি প্রায় পুরোটাই উঠে আসবে। অমল জানালেন, ২০০৮ সালে শুরু করে শুধু মাল্টা চাষেই তার এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে তিন লাখ টাকার বেশি। ভারত, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড জাতের তিনরকম মাল্টা গাছ রয়েছে তার বাগানে, যা তিনি পাশের স্বরূপকাঠির জলিলের নার্সারি থেকে কিনেছেন। সখের বশে শুরু করা ফলের বাগানে কলেজ শিক্ষক এক মামাতো ভাইয়ের প্রেরণায় মাল্টা সংযোজন করে ছিলেন অনেকটা সংশয়াচ্ছন্ন মন নিয়ে। ঝুঁকি আর ঐকান্তিকতা নিয়ে ব্যয়কৃত অর্থ-শ্রম-মেধার বিনিময়ে যা আজ তাকে দিয়েছে তৃপ্তি ও খ্যাতি। কৃষিবিদ, কৃষক, মিডিয়া কর্মী, সাধারণ উত্সাহী মানুষ অনেকেই তার বাগান দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন ফলন মৌসুমে। ফাল্গুন মাসে ফুল আসার পর থেকে প্রায় পাঁচ মাস অপেক্ষা করতে হয় পরিপক্ক ফল তোলার জন্য। অমলেশ রায়ের বাগানে গিয়ে দেখা গেল শত শত সবুজ আর হলুদ বর্ণের মাল্টা। এ বছর এই মাল্টা দেখতে সুদূর ঝিনাইদহ, বরগুনার পাথরঘাটা, বরিশাল শহর, খুলনা জেলাসহ পিরোজপুরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসেছিলেন উত্সাহী কৃষক-কৃষাণী ও কৃষি কর্মকর্তাগণ। কিছু কৃষক তার দেখাদেখি শুরু করেছেন মাল্টা বাগান করা। মাল্টা চাষকে এ অঞ্চলে জনপ্রিয় করতে তিনি তার প্রেরণাদাতা মামাতো ভাই শ্যামল মন্ডলকে নিয়ে শুরু করতে যাচ্ছেন একটি সংগঠনও। যার উদ্দেশ্য- দেশে আমদানিকৃত বিষযুক্ত মাল্টাসহ নানা বিদেশি ফলের বিকল্প নিরাপদ ও বিষবিহীন মাল্টা, মুসম্বি, কমলা, আম, লিচু ইত্যাদির চাষ ও বাজারজাতকরণের পরিবেশ সম্মত একটি ধারা সৃষ্টি করা।