সত্যজিত্ বিশ্বাস
কেউই ঘুরছে না
শিক্ষক :বল তো পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে নাকি সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে?
ছাত্র :স্যার, আমার মনে হয় কয়দিন যাবত দুইজনই ঘোরাঘুরি বন্ধ করে রেস্টে আছে। কেউই ঘুরছে না।
শিক্ষক :তার মানে?
ছাত্র :দেখছেন না, কতদিন যাবত কী গরমটাই না পড়ছে! কমার কোনো লক্ষণ আছে?
বদনাম
বাড়িওয়ালি :দুধ এত পাতলা কেন?
দুধ বিক্রেতা :এইটা তো গরুর মর্জি। এইখানে তো আমার হাত নাই।
বাড়িওয়ালী :গরুর ওপর দোষ দেন কেন? নিশ্চয়ই ভেজাল মিশাইছেন।
দুধ বিক্রেতা :এইটা কী কইলেন? তিরিশ বছর ধইরা দুধ বেচি। পানি মিশাইতে পারি কিন্তু ভেজাল মিশাইছি—এই বদনাম কেউ দিতে পারব না।
ঈদ শুভেচ্ছা
প্রেমিকা :এবার ঈদে আমাকে কী দেবে গো?
প্রেমিক :ঈদ শুভেচ্ছা—ঈদ মোবারক।
মাস্তানী শপিং
পাড়ার মাস্তান :তোর দোকান থেকে যে ঈদের শপিং করেছি, এটাই তো তোর চৌদ্দ গুষ্টির ভাগ্য। আবার আমার কাছে টাকা চাস! তুই জানিস আমি কে?
দোকানদার :কেন, আপনি জানেন না? নিজের নাম নিজেই ভুইলা গেছেন?
পাড়ার মাস্তান :কী! এত্ত বড় কথা? জানিস, আমি এলাকায় ঢুকলে এলাকা থরথর কইরা কাঁপে।
দোকানদার :ও বুঝছি। আপনার নাম বুলডোজার। তাই না, ভাইজান?
ভালো তো লাগবেই
প্রেমিক :জানো, রোজা রেখেও তোমার সাথে ঘুরতে একটুও কষ্ট হয় না আমার বরং ভালোই লাগে।
প্রেমিকা :তা তো লাগবেই। ফাস্ট ফুডের দোকানে বসার বিলটা বেঁচে যায় যে।
কম কিনুন, কম খান
ক্রেতা :প্রতি রোজায় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে আপনারা কী বোঝাতে চান?
বিক্রেতা :বোঝাতে চাই, রোজা হচ্ছে সংযম সাধনের মাস। কম কিনুন, কম খান।
কয়টা অ্যাকাউন্ট?
দারোগা :সত্যি করে বল, কবে থেকে জাল নোটের ব্যবসা শুরু করছিস?
জালনোট ব্যবসায়ী :বিশ্বাস করেন স্যার, আমি কিচ্ছু জানি না।
দারোগা :কিচ্ছু জানিস না মানে? বল, তোর কয়টা অ্যাকাউন্ট?
জালনোট ব্যবসায়ী :স্যার মাত্র ছয়টা।
দারোগা :তোর ছয়টা অ্যাকাউন্ট, আর বলছিস, কিচ্ছু জানিস না। বল, কোথায় কোথায় অ্যাকাউন্ট?
জালনোট ব্যবসায়ী :স্যার, চারটা ফেসবুকে আর বাকি দুইটা টুইটারে।
হোয়াই?
খবর :পুলিশের হাত থেকে পালাতে গিয়ে মরার দশা, দেয়াল কেটে উদ্ধার
পুলিশ ইন্সপেক্টর :কী ব্যাপার, পালাচ্ছিলে কেন? হোয়াই?
আটকে থাকা ব্যক্তি :স্যার হোয়াইয়া, চিত কইরা যেইভাবে পারেন, আমারে খালি বাইর করেন।
১৫ মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস
স্ত্রী :ওগো, এই দিনে কী করে গো?
স্বামী :যারা পরিবার গঠন করে, তারা এই দিনে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
স্ত্রী :তোমার সাথে সংসার করতে আইস্যা আমার জীবনটা ধ্বংস করছি।
স্বামী :আর তোমার সাথে সংসার করতে আইস্যা আমি সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে।
পরিবার
ছোট ছেলে :আচ্ছা বাবা, কোন বারকে পরিবার বলে?
বাবা :কোন মেয়ে পরির বেশ ধরে যে বারে স্বামীর ঘরে আসে, সেই বারই পরিবার।
ভালো বাসা
ভাড়াটে :এটা কেমন বাসা আপনার? মুরগির খাঁচার মতো খোপ। তার ওপর বাসায় কোনো জানালা নেই। গরমে তো সিদ্ধ হয়ে যাবার মতো অবস্থা! এটা কোনো বাসা হলো?
বাড়িওয়ালা :এটাই তো এই বাসার বৈশিষ্ট্য।
ভাড়াটে :তার মানে?
বাড়িওয়ালা :এই বাসায় যারা থাকে, তাদের ভালোবাসা যাতে জানালা দিয়ে পালাতে না পারে, সেই জন্যই তো জানালা নাই।
অমূল্য যে
ক্রেতা :কী ব্যাপার, আপনার দোকানে কোনো মূল্যতালিকা নেই?
বিক্রেতা :জি না।
ক্রেতা :কেন?
বিক্রেতা :আমার দোকানের সব কিছু অমূল্য সম্পদ কি না, তাই।
লাগবা বাজি?
স্ত্রী :তুমি তো আমাকে নিয়ে ঈদের শপিংয়ে আসতে চাও না। আর ওদিকে ওই লোকটার দিকে তাকিয়ে দেখ?
স্বামী :কী দেখব?
স্ত্রী :দেখেছ, তার বউ নিতে চাচ্ছে না অথচ স্বামীটা একগাদা শাড়ি কিনে দেওয়ার জন্য কেমন জোর করছে? তুমি আমাকে জীবনেও এমন বলেছ?
স্বামী :ও আচ্ছা। তাহলে বাজি লাগতে পার, ওটা ওই লোকের বউ না।
স্ত্রী :তার মানে?
স্বামী :বিবাহিতরা কখনোই এমন করে না।
আমরা ব্যতিক্রম
ক্রেতা :রোজায় প্রতিটা জিনিসের দাম বাড়তে হবে কেন?
বিক্রেতা :আমরা ব্যতিক্রম যে!
ক্রেতা :আজীব (আজব) অবস্থা! এমন অবস্থা আর কোন দেশে আছে?
বিক্রেতা :কোনো দেশে নেই বলেই তো আমরা ব্যতিক্রম।
কেমনে বুঝলেন?
ক্রেতা :মূল্য তালিকা ছাড়াই বেশি দামে মাংস বিক্রি করেন—এটা কি ঠিক?
বিক্রেতা :আরে ধুর মিয়া, আপনার কথাই তো হয় না।
ক্রেতা :কেন? ভুল কী বললাম?
বিক্রেতা :আমি কি মূল্য তালিকা টানাইছি?
ক্রেতা :না টানান নাই।
বিক্রেতা :তাইলে কেমনে বুঝলেন যে, মূল্য তালিকার থেইকা বেশি দামে মাংস বিক্রি করি?
ভেজাল
ক্রেতা :তেল, ঘি, লবণ, মসলা, সেমাই, ময়দা, চানাচুর, নুডলস সবকিছুতে ভেজাল। এটা কোনো কথা হলো? তার ওপর আবার ব্যানার টানিয়ে রেখেছেন, রমজান মাসের শুভেচ্ছা নিন।
বিক্রেতা :ইয়ে মানে বিশ্বাস করুন, শুভেচ্ছা বাণীতে কোনো ভেজাল নেই।
রং+চক+চিনি+ফিটকিরি=গুড়!
ফুড ইনস্পেকটর :এই যে রং, চক, চিনি, ফিটকিরি দিয়ে যে ভেজাল গুড় তৈরি করছ, জানো এটা কত খারাপ শরীরের জন্য?
ভেজাল কারবারি :জি না স্যার, জানি না। কিছু মনে না করলে একটা কথা জিজ্ঞাস করতাম।
ফুড ইনস্পেকটর :কী কথা?
ভেজাল কারবারি :আপনি কি কখনো এভাবে গুড় বানাইছেন?
ফুড ইনস্পেকটর :আমি বানাতে যাব কেন?
ভেজাল কারবারি :তাহলে আপনি কী করে জানলেন, এভাবে গুড় বানানো খারাপ!