সাঈদ সাহেদুল ইসলাম
মাছে দুধে ফরমালিন ও সবজিতে বিষ-কীটনাশক!
নিত্য খেয়ে দেহ-মনের যাচ্ছে বেড়ে ফিত্না-শোক।
মবিল দিয়ে জিলেপি, চানাচুর ভাজেন—ঠক’রা তো,
টাকার লোভে তাদের ছলাকলা, ছকড়া-নখরা তো!
ব্রেড-বিস্কুট-সেমাই-নুডলস আর যতসব মিষ্টিতেই,
হয় মেশানো রং লেদারের লোক ঠকানো কৃষ্টিতেই!
না বুঝে কেউ খাচ্ছি ওসব—বিশেষ দিনে—উত্সবে,
আমজনতা এসব জানেন? ধরতে পারেন খুঁত সবে?
মুড়ি-চিড়াও হচ্ছে তৈয়ার ইউরিয়া সার-হাইড্রোজে,
রেডিয়েশন মিশে দেয়া আর গুঁড়োদুধ খাই ডোজে।
মিশিয়ে ছানার পানির সঙ্গে ভাতের মাড় ও অ্যারারুট,
গাভির দুধও বানাচ্ছে কেউ অর্থ আয়ের সেরা রুট।
গামছাতে কেউ ছেঁকে পানি—পুকুর-ডোবা-ওয়াসার,
জল মিনারেল তৈরি করে কাটে না জাল ধোঁয়াশার।
সকল কাঁচা ফল পাকাতে মেশায় যে রং এথাইলিন,
ফলের পুষ্টি থাকার কথা—কিন্তু তাতে সেটাই লীন।
ডাল-আটা-চাল-লবণ-চিনি এবং ধরুন ভোজ্যতেল,
আজ ভেজালে পূরণ হলো, করবে কতই সহ্য দেল?
কাঠের গুঁড়া-কাউন মিশিয়ে হচ্ছে তৈয়ার মশলা যে,
ভেজালকারী এত্ত খারাপ তাদের কী বা কস লাজে?
এসব খেয়েই অসুখ বাড়াই, বাঁচতে ছুটে পথ্য খাই,
পথ্যে ভেজাল রোগ কমে না-বলুন না তা কত্ত খাই?
এমন অনেক ভেজাল খেয়েই আমরা থাকি আতঙ্কে,
খাদ্যে এত বিষের নাটক শেষ হবে কি সাত অঙ্কে?