নবীনগরে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যে কোন মুহূর্তে ভবন ধসে প্রাণহানির মত মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পরিত্যক্ত ঘোষিত এই ভবন ছেড়ে কোমলমতি শিশুরা এখন খোলা আকাশের নীচে লেখাপড়া করছে। নতুন ভবন নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেই। গত ৪ বছর ধরে স্কুলের পাশের খালি জায়গায় প্রখর রোদ্রে, বৃষ্টিতে চলছে তাদের পাঠদান কার্যক্রম। স্কুলটির এমন জরাজীর্ণ অবস্থা যে, ভবনের বিম, কলাম ও ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ১৯৮৪ সালে স্থাপিত এই স্কুলটিতে বর্তমানে ১৮৪ জন ছাত্র-ছাত্রী ও ৪ জন শিক্ষক রয়েছে। ১৯৯৪ সালে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন স্থাপিত হলেও ভবনটির বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দেখা দিলে ২০০৯ সালে তত্কালীন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোতাহারবিল্লা ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। আর তখন থেকেই চলছে খোলা আকাশের নীচে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান। রোদ, বৃষ্টি কিংবা ঝড়ের কারণে অভিভাবক তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে প্রতিনিয়তই আতঙ্কে থাকে বলে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মাকসুদা বেগম বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট দরখাস্ত দেয়ার পর আশ্বস্ত করলেও, অদ্যবধি কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এভাবেই খোলা আকাশের নীচে প্রায় চার বছর ধরে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। উপজেলা শিক্ষা অফিসার শারিফ রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ইব্রাহিমপুর, বড়াইল উত্তর ও শিতারামপুর এই তিনটি স্কুলকে ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং শিক্ষা কমিটিকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক সরকার আশ্বস্ত করে বলেন, বিষয়টি আগে আমাকে জানানো হয়নি, তবে অচিরেই পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।