সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অর্থমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:০৫
ভোট গ্রহণের সময় ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের কাছে ছবিসহ পরিচয়পত্র বা জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। একইসঙ্গে নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভোটদানের সুযোগ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের কাছে নির্বাচন কেন্দ্রিক লিখিতভাবে পাঁচটি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনও অর্থমন্ত্রীর এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সাথে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করা যায় কিনা তা পর্যালোচনা করে দেখার জন্য কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে।
ইসি সচিবালয়সূত্র জানায়, নিজের দাপ্তরিক প্যাডে গত ২৯ সেপ্টেম্বর পাঠানো অর্থমন্ত্রীর এ চিঠি ৩০ সেপ্টেম্বর সিইসি গ্রহণ করেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কমিশন সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিককে নির্দেশ দেন। সচিব কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি বাস্তবায়নযোগ্য কিনা তা পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন।
অর্থমন্ত্রীর এ চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘২০০৮ সালে কয়েক বছরের আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাচন পদ্ধতিতে অত্যন্ত উন্নতমানের সংস্কার সাধিত হয়। এ বিষয়ে তত্কালীন নির্বাচন কমিশনের কাছে আমার অসংখ্য প্রস্তাব আলোচিত ও বিবেচিত হয়। গত মেয়র নির্বাচনের সময় আমি কয়েকটি বিষয়ে লক্ষ্য করি এবং একজন সচেতন ভোটার হিসেবে আমার কিছু বলার আছে তাই আমি কয়েকটি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এই পত্রটি আমি মন্ত্রী হিসেবে লিখছি না একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দিচ্ছি।’
চিঠিতে মন্ত্রীর এক নম্বর প্রস্তাব, ‘ছবি সংবলিত ভোটার তালিকা আপনারা যুক্তিযুক্তভাবেই প্রার্থীদের এজেন্টদের হাতে দেন না। তবে এ রকম ছবি সংবলিত ভোটার তালিকা প্রিজাইডিং অফিসারদের হাতে যদি না থাকে তবে তা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। একইসঙ্গে প্রতিটি ভোটারের জন্য ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র হাতে রাখা বাধ্যতামূলক করা দরকার। কারণ যদি কোথাও কোনো চ্যালেঞ্জ হয় তাহলে তাকে তার পরিচয়পত্র দিয়েই সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে। আমি শুনলাম যে, গত মেয়র নির্বাচনের সময় এই অনুশাসন ছিল না। এরসঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর একটি বিষয় হলো, যার এই রকম পরিচয়পত্র থাকে তার নাম ভোটার তালিকায় থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় হয় মেয়র নির্বাচনের সময়।’
দুই নম্বর প্রস্তাবটি হচ্ছে, ‘ভোট কেন্দ্র পরিবর্তন এবং ভোটারদের অধিকার প্রদান বা অধিকার বাতিল অন্ততপক্ষে নির্বাচনের ১৫ দিন আগে চূড়ান্ত করা দরকার। এবং মুদ্রিত ভোটার তালিকা প্রতিটি কেন্দ্রে দেয়া উচিত। অনেক সময় তালিকা পরিবর্তনে দেরি হওয়ার ফলে হাতে লেখা সংশোধনী পাঠানো হয়। হাতে লেখা সংশোধনী প্রদান একেবারে নিষিদ্ধ করতে হবে। ১৫ দিন আগে কোনো ভোটার যদি সংশোধন না করে তাহলে তাকে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়া উচিত নয়।’
তিন নম্বর প্রস্তাবনায় মন্ত্রী বলেছেন, ‘ভোট গ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের নিজস্ব ভোট এলাকার বাইরে নিযুক্ত হলে সচরাচর ভোট দিতে পারেন না। অন্যান্য দেশে এজন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা আছে। আমাদের এখানে পোস্টাল ব্যালট আপাতত নেই। সুতরাং অন্যভাবে তাদের ভোট নেয়ার ব্যবস্থা করা যায়। ভোটের আগে একটি নির্দিষ্ট দিনে ও সময়ে তাদের জন্য ভোটদান নিশ্চিত করা যায়। তাদের ভোটটি রিটার্নিং অফিসার প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে গ্রহণ করবেন এবং ভোটের বাক্সটি সীলগালা করে রাখবেন। ভোটের বাক্স গণনা করার সময় এই বাক্সটিও গণনা করা যাবে।’
চার নম্বর প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ‘ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের ভিড় সুষ্ঠু ভোট গ্রহণে অনেক সময় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এজন্য ভোট কেন্দ্রের পরিসর বিবেচনা করে কতজন ভোটার ভোট কেন্দ্রে একসঙ্গে হাজির থাকবেন সেটা নির্দিষ্ট করে দেয়া প্রয়োজন। এবং এই কাজটি ভোট প্রদান শুরু হওয়ার অন্তত আধঘণ্টা আগে প্রিজাইডিং অফিসার প্রার্থীদের এজেন্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করে দেবেন এবং কতজন ভোটার একসঙ্গে লাইন বেঁধে বা অন্য উপায়ে উপস্থিত থাকবেন তা নির্ধারণ করে দেয়া হবে এবং উপস্থিত ভোটারদের সে সম্বন্ধে বলে দেয়া হবে।’
সর্বশেষ পাঁচ নম্বর প্রস্তাবনায় মন্ত্রী বলেছেন, ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কাজটি বড় অগোছালো। অসংখ্য ভুঁইফোড় পর্যবেক্ষক আসলে ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়। এজন্য কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমেই পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে নিবন্ধিত করতে হবে। শুধু প্রতিষ্ঠিত জাতীয় সংগঠন এইজন্য নিবন্ধন পাবে। মফস্বলের ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে কোনো নিবন্ধন পাবে না। দ্বিতীয়ত, ভোট কেন্দ্রে মোট পর্যবেক্ষণের সংখ্যা ভোট কেন্দ্রের অবস্থা অনুযায়ী পূর্বনির্ধারিত হারে নিযুক্তি দেয়া হবে। তৃতীয়ত, তাদের নিবন্ধন পরিচয় কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন প্রদান করবেন। চতুর্থত, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা ও পরিচয় যথাসময়ে প্রকাশ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে তাদের যোগ্যতা সম্বন্ধে আপত্তি জানানোর সুযোগ দিতে হবে।’
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনের সচিব দেশের বাইরে থাকায় অর্থমন্ত্রীর এ চিঠির বিষয়ে গতকাল তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন।