‘গণমাধ্যমকে সব সরকার প্রতিবন্ধক মনে করে’

যেকোন সরকারই জনগণের চেয়ে গণমাধ্যমকেই বেশি ভয় পায় মন্তব্য করে প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা বলেছেন, একারণেই বার বার গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ হয়। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণমাধ্যমের সামপ্রতিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। প্রবীণ এই সাংবাদিক বলেন, সব সরকারই ক্ষমতায় চিরস্থায়ী থাকার জন্য গণমাধ্যমকে প্রতিবন্ধক মনে করে। তাই গণমাধ্যম রুদ্ধ করে। তবে বাংলাদেশে বার বার একনায়কতন্ত্র এসেছে এবং তার পরিবর্তনও হয়েছে। বরং যে সরকারই ক্ষমতা চিরস্থায়ী হবার চেষ্টা করেছে, তারা সম্মানের সঙ্গে বিদায় নিতে পারেনি। জাতীয় প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনাক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্য কমিশনার অধ্যাপক সাদেকা হালিম, অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বিএফইউজে (একাংশের) সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, বিএফইউজে (একাংশের) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী প্রমুখ। ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমের সার্বিক সংকট নিরসন করতে হলে, কার পক্ষে বা বিপক্ষে যাবে, তা বিবেচনা না করেই সত্য বিষয়টি প্রকাশ করা উচিত। তথ্য প্রযুক্তি আইনের সমালোচনা করে অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আজ এমন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে যা ৯০ পরবর্তী গণতান্ত্রিক আমলে কখনোই এত বড় সংকটে পড়েনি। শওকত মাহমুদ বলেন, এই সরকারের আমলে সাংবাদিকদের উপর দমন পীড়ন চলেছে কিন্তু আমরা তার বিচার পাইনি। রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আইসিটির ৫৭ ধারা সংশোধন এবং সমপ্রচার নীতিমালা দুটিই উদ্বেগের বিষয়। কারণ, আইসিটি অ্যাক্টের মধ্যে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টের ভূত দেখা যাচ্ছে।