সাত চীনা নাগরিকসহ ১০ মাদক পাচারকারী আটক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৫
বুধবার গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরায় অভিযান চালিয়ে ৭ চীনা নাগরিক ও ৩ বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে প্রায় তিনশ কেজি ইয়াবা তৈরির প্রধান উপাদান ‘এফিড্রিন’ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বোতাম রফতানির নামে ‘এক্সপো ফ্রেইট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গত চার বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে ‘এফিড্রিন’ পাচার করতেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- লিউ জিং হুই (৪৬), রাউ রুই য়ং (৪৬), কুই হং টু (৩৮), জাং চাউ লিয়াং (৪০), লিন লিয়ান ফু (৩৫), লিউ জি জিন (২৭), ইয়াং হি চেং (৪০), মুশফিকুর রহমান খান সোহেল (৩৫), রকিবুল হাসান (৩৪) ও মুনিরুজ্জামান (৩৮)।
গতকাল বৃহস্পতিবার র্যাব সদর দফতরে গ্রেফতারকৃত এই ১০ জনকে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত করা হয়। এসময় র্যাবের মিডিয়া এ্যান্ড লিগ্যাল শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে ১১ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ‘এক্সপো ফ্রেইট’-এর মাধ্যমে এয়ার ফ্রেইটে (বিমান পরিবহন) তৈরি পোশাকের বোতামের ১২টি কার্টন হংকং পাঠানোর জন্য দেয়া হয়। বিষয়টি সন্দেহ হলে কাস্টমস পরীক্ষা করে কার্টনে বোতামের পরিবর্েত বিভিন্ন ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়। চালানের প্রেরকের ঠিকানায় যোগাযোগ করলে মিজানুর রহমানের পরিবর্তে চীনা নাগরিক লিউ জিং হুই মোবাইল রিসিভ করেন। মিজানুর রহমান তার ব্যবসায়িক অংশীদার বলে জানান। এদিকে র্যাব চালানের ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করে। পরীক্ষায় নিশ্চিত হয় যে, ওষুধে ইয়াবা তৈরির প্রধান উপাদান ‘এফিড্রিন’ রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ৭ চীনা নাগরিক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তারা ৪ বছর ধরে বাংলাদেশে বিভিন্ন মেয়াদে আসা-যাওয়া করছেন। মাছ ও তৈরি পোশাক ব্যবসার অন্তরালে ৩ বাংলাদেশির সহায়তায় তারা ওষুধ বিক্রির প্রতিষ্ঠান থেকে এসব ‘এফিড্রিন’ কিনে চীন ও হংকংয়ে পাচার করেতেন।
র্যাব জানায়, ‘এফিড্রিন’ একটি নিয়ন্ত্রিত ড্রাগ। এটি সাধারণত ওষুধ শিল্পে ব্যবহার করা হয়। এর আমদানি, রপ্তানি, ব্যবহার, বিক্রি, মজুদ, বহন ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন এবং আন্তর্জাতিক ছাড়পত্র ছাড়া এর ব্যবহারও নিষিদ্ধ।