তত্ত্বাবধায়কের অধীনে সংসদ নির্বাচন করার নির্দেশনা চেয়ে রিট

দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়কের অধীনে করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। আবেদনে একই সঙ্গে এই দুই মেয়াদের সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়কের অধীনে করার কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করার কথাও বলা হয়েছে। বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের ডিভিশন বেঞ্চে আগামী রবিবার এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. মুহাম্মদ ইউনুস আলী আকন্দ গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন দায়ের করেন। আবেদনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী পরিষদ সচিব, আইন সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ১৪ দলীয় জোট নেত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং ১৮ দলীয় জোট নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকেও বিবাদী করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংযোজন করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে ২০১১ সালের ১০ মে রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চের তিন বিচারপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মত দেন। অপর চার বিচারপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করলেও আগামী দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ ব্যবস্থার অধীনে করার পক্ষে পর্যবেক্ষণ দেন। ২০১১ সালের ১০ মে দেয়া রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তা, শান্তি-শৃংখলা এবং ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে আগামী দুটি (দশম ও একাদশ) জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। কিন্তু গত ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রায়ের আদেশের অংশ থেকে দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার কথা তুলে দেয়া হয়েছে। ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, সংক্ষিপ্ত আদেশের পর্যবেক্ষণ কার্যকর করার জন্য রিট করেছি। ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, জনস্বার্থে রিটটি করা হয়েছে।