গল্প নয় সত্যি

পায়রা, মুঠোফোন ও হাজতবাসের গল্প!

ডাকব্যবস্থা কিংবা টেলিফোনের আবিষ্কার যখন মানুষের কাছে দূরতম কল্পনা হয়েই ছিল তখন বিশ্বের বহু দেশেই বার্তা আদান-প্রদানের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহূত হতো পায়রা বা কবুতরের মতো পাখি। তবে হালে যখন মুঠোফোনের বদৌলতে দেশ-বিদেশের সকল মানুষই চট করে জেনে নিতে পারছেন তার প্রিয়জনের খবর তখন পায়রা বা কবুতরের কথা কে-ই বা মনে রাখে। তবে এ যুগে বাস করেও পায়রার ওপর আস্থা রাখতে হয়েছিল ব্রাজিলের ২১-এ পা দেওয়া তরুণী ক্রিস্টিয়েলি মানসাকে। নিজের প্রেমিককে ভীষণ প্রয়োজনীয় একখানা জিনিস(!) পাঠাতেই পায়রার দ্বারস্থ হয়েছিলেন ক্রিস্টিয়েলি। ভাবছেন পারিবারিক বাধার কারণে এক প্রেমিকা তার প্রেমিকের কাছে সবার চোখ এড়িয়ে কিছু পাঠালে তা আর এমন দোষের কী! আসলে ঘটনার মোড়টাই যে এখানে। ১৯ বছর বয়সী ওয়াগনার মাচাডো প্রেমিক হিসেবে ভালো হলেও মানুষ হিসেবে যে ততটা ভালো নন। আর তাই মাদক চোরাচালানের এক মামলায় বেশ কিছুদিন আগেই তার ঠাঁই হয়েছিল ব্রাজিলের পোর্তো আলের কারাগারে। আর কারাগারে আটকে থাকা এই বীর(!) প্রেমিকের জন্যই পায়রার পিঠে বেধে একখানা মুঠোফোন পাঠাতে চেষ্টা করছিলেন প্রেমিকা ক্রিস্টিয়েলি। কিন্তু বিধি বাম। আগের যুগে চিঠি বহন করার প্রশিক্ষণ পায়রাদের দিব্যি নেওয়া থাকলেও এ যুগের পায়রা হয়ে ভারি একখানা মোবাইল ফোনের ভার সইতে পারেনি ক্রিস্টিয়েলির পোষা পায়রা। আর পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে! কারাগারের অভ্যন্তরে একেবারে টহল পুলিশের গাড়ির সামনেই মোবাইল সমেত মাটিতে ভূপতিত হয় পায়রাটি। আর এই পায়রার সূত্র ধরেই কারাগারের বাইরে আরও এক যুবকসহ অপেক্ষমান ক্রিস্টিয়েলিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার কাছে একইরকম আরেকটি পায়রা ও কারাগারের ভেতরে পাঠানোর জন্য আনা ব্যাটারি, চিপস ও বেশ কিছু নগদ টাকাও জব্দ করা হয়। আর নিয়ম ভঙ্গ করে কারা অভ্যন্তরে মোবাইল ফোন ও টাকা পাঠানোর চেষ্টা করার কারণে এখন ক্রিস্টিয়েলির স্থান হয়েছে কারাগারেই!