৪-০’র মতো কিছু হলেই ভালো হয় : মাহমুদউল্লাহ
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১৯
বৃষ্টিতে অনুশীলন ম্যাচের প্রথম দিনটা ভেসে যাওয়ায় আর সবার মতোই খানিকটা হতাশ জাতীয় দলের সহঅধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। তবে তিনি একটু বেশি হতাশ হতে পারেন, নিজের ফর্মটা ফিরে পাওয়ার আরেকটা সুযোগ মিস করায়।
নিজের ফর্ম, দলের সম্ভাবনা ও প্রস্তুতি নিয়ে কাল দিনের খেলা পরিত্যক্ত হওয়ার পর চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেন মাহমুদউল্লাহ—
প্রথম দিন খেলা না হওয়াটা কী হতাশার?
খানিকটা তো বটেই। অনেকদিন বড় দৈর্ঘের ম্যাচ খেলা হয় না। সবার জন্য ম্যাচ অনুশীলনের একটা সুযোগ ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রথম দিনটায় খেলা হল না। কিন্তু কিছু করার তো নেই। বৃষ্টি তো আর আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়। তারপরও আমরা নিজেদের মতো অনুশীলন করে নিলাম।
অনেকদিন হয় আপনারা ওয়ানডেই খেলছেন। সেখান থেকে হঠাত্ টেস্টে মানিয়ে নেয়াটা কঠিন হবে কিনা?
গত মাসখানেক ধরে আমরা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলছিলাম। এর ফলে ওয়ানডে ফরম্যাটে বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম আমরা। আর এজন্যই লাল বলে খেলার একটা ভালো সুযোগ ছিল এই ম্যাচটি। আশা করি সামনের দুদিনে অবস্থা ভালো হয়ে যাবে। এর মধ্যে আমরা আমাদের প্র্যাকটিস করে নেব।
এই মানিয়ে নেয়াটা কতোটা কঠিন?
আমরা এশিয়া কাপ খেলেছিলাম বিপিএলের পর পর, তখন মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়নি। আমরা পেশাদার ক্রিকেটার। যত তাড়াতাড়ি মানিয়ে নেয়া যায়, ততই ভালো। ফরম্যাটের অজুহাত দিয়ে লাভ নেই, মাঠে নামলে ভালো খেলতেই হবে।
আপনার নিজের ফর্মটা ফিরে পাওয়ার জন্য অনুশীলন ম্যাচ হওয়াটা জরুরি কিনা?
আমার কাছে মনে হয় না আমি বাজে ফর্মে আছি। টেস্টে গত তিন-চারটা ইনিংস হয়ত রান পাইনি। কিন্তু আমি ব্যাটিং ভালোই করছিলাম। ম্যাচ হলে অবশ্যই আমার জন্য ভালো হতো। ব্যাটিং অনুশীলনের সুযোগ পেতাম।
গত বছর দুয়েক ধরে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। কিন্তু এই শেষ কটা ইনিংসে সমস্যা কী হল?
হয়ত সেট হতে পারছিলাম না। ভুল করছিলাম। সেট হওয়ার আগেই দ্রুত আউট হয়ে যাচ্ছিলাম।
আপনাকে সাত-আট নম্বরে ব্যাট করতে হয়। এটা কী পছন্দ করেন?
আমি তো সবসময় পছন্দ করি পাঁচ-ছয়। কিন্তু দলের প্রয়োজনে হয়ত আট বা সাত নম্বরে ব্যাটিং করতে হয়। ইটস ওকে ফর মি।
বড় ইনিংস খেলার জন্য নিজের ভেতরে কোনো চাপ টের পাচ্ছেন?
না, আমি কোনোরকম চাপ টের পাচ্ছি না। আমি খুবই স্বস্তিতে আছি, স্বাভাবিক আছি।
নিজের জন্য কোনো লক্ষ্য ঠিক করেছেন?
এই মুহূর্তে কোনো পারসোনাল গোল সেট করছি না। আমি চেষ্টা করব খেলার সময় গোল ঠিক করতে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি মনে করা হয় হোম কন্ডিশন...
আমাদের কন্ডিশন আমরা অবশ্যই কাজে লাগাতে চাইবো। উইকেট হয়ত স্পিন সহায়কই হবে। সেক্ষেত্রে আমাদের স্পিনাররা তো অবশ্যই মূল শক্তি। সাকিব ফিরে এসেছে, রাজ ভাই খুব ভালো বোলিং করছেন, গাজী আছে। অন্যদিকে আমাদের পেসাররাও সবাই ফর্মে আছে। শেষ দুই টেস্টে শিপুল দারুণ বোলিং করেছে। ব্যাটসম্যানরা রানে আছে। কম্বিনেশন ভালো, এখন মাঠে এই কাজগুলো ভালোভাবে করতে পারলেই হয়।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঠিক কী রেজাল্ট আশা করছেন?
আমরা খুব ইতিবাচক ফলাফল আশা করছি। তবে আমাদের ভালো খেলতে হবে। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যখন খেলেছি, আমরা খুব ভালো খেলেছিলাম। ওই ঘটনা আমাদের খুব অনুপ্রাণিত করবে।
কী ফল হলে আপনি খুশি হবেন?
আগেরবারের ৪-০’র মতো কিছু হলে ভালো, আলহামদুলিল্লাহ।
ওদের দলটা তুলনামূলক অনভিজ্ঞ। এটা কী আমাদের এগিয়ে রাখবে?
ওরা অনভিজ্ঞ, এটা আলোচনা হয়েছে। তবে আমাদের মূল ভাবনা আমাদের নিয়েই। আমরা যদি সেরাটা দিতে পারি, তাহলে আমরা ওদের অবশ্যই হারাতে পারি।
এখানে ভালো করলে র্যাংকিং ভালো হতে পারে...
আমরা র্যাঙ্কিং নিয়ে চিন্তা করছি না। তবে টেস্টের রেজাল্ট নিয়ে আমরা অবশ্যই কনসার্ন। গত দু-তিনটি টেস্ট সিরিজ আমরা ভালো খেলেছি, তবে রেজাল্ট আমাদের পক্ষে ছিল না। তবে এবার আশা করব যেন রেজাল্ট আমাদের পক্ষে আসে। রেজাল্ট আমাদের পক্ষে আসলে র্যাঙ্কিংও এমনিই ভালো হবে।
প্রথম টেস্টে তিন পেসার খেলবে, নাকি দুই পেসার?
কন্ডিশন অনুযায়ী টিম কম্বিনেশন হবে। উইকেট পেস সহায়ক হলে হয়ত আমরা তিন পেসারে যাব। জানি না উইকেট কেমন হবে, ওটার উপরই নির্ভর করছে।