পরিবেশ বাঁচাও
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৫৯
মানুষ পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব ও উপকারিতা বোঝে না, এমন নয়। প্রকৃতির জৈব ও অজৈব উপাদানগুলো রক্ষা ও এগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য নানা বিধিনিষেধ থেকে তার বিস্তর প্রমাণ মেলে। ‘গাছ কেটে গাছ না লাগালে বংশের ক্ষতি হয়’, ‘শ্রাবণ মাসে সাপ মারা নিষেধ, ‘জৈষ্ঠ্য-আষাঢ়ের নির্দিষ্ট তিথিতে নদী-সমুদ্রে মাছ ধরলে বংশের কেউ মারা যাবে’, ‘অমাবশ্যা-পূর্ণিমার দিন মাছে বড়শি খাবে না’ ইত্যাদির পেছনে পরিবেশ সংরক্ষণের বৈজ্ঞানিক প্রয়াস কি লক্ষণীয় নয়? তবুও পরিবেশ সংরক্ষণের সমস্যা দিনে দিনে এত জটিল হয়ে উঠলো কেন? বিজ্ঞানী জে ডি বার্নালের মতে, আসলে ধ্বংসক্রিয়ার মূলে রয়েছে পুঁজিতন্ত্র। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই মৃত্তিকার ক্ষতিসাধন বা ধ্বংসসাধন প্রচণ্ডহারে বেড়েছে। কারণ পুঁজিতন্ত্র তার স্বাভাবসিদ্ধ প্রক্রিয়ায় তাত্ক্ষণিকভাবে মুনাফার লোভে জমির ওপর নির্মম অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। বহুদিন আগে এঙ্গেলসও বলেছিলেন, ব্যক্তি পুঁজিপতিরা যেহেতু আশু মুনাফার জন্য উত্পাদন ও বিনিময়ে আত্মনিয়োগ করে, তাই সর্বাগ্রে তার নিকটতম ও তাত্ক্ষণিক ফলটাই তারা হিসাবের মধ্যে আনতে চায়। ব্যক্তি শিল্পোত্পাদক অথবা বণিক যতক্ষণ তার শিল্পোত্পন্ন বা ক্রীত পণ্যটি স্বাভাবিক মুনাফায় বিক্রি করতে পারছে ততক্ষণ সে সন্তুষ্ট, পরে ক্রেতার বা পণ্যের কী ঘটলো তা নিয়ে তার মাথাব্যথা বা ভাবনা নেই।
আণবিক বর্জ্য কী সমস্যা সৃষ্টি করে তা তো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভয়াবহভাবে প্রমাণিত। বিগত কয়েক দশকে আনবিক পরীক্ষা কি বন্ধ হয়েছে? পৃথিবী তো হুমকির সম্মুখীন। ওজোন স্তরে ফাটল ধরেছে, গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর বায়ু তপ্ত হয়ে উঠেছে, মেরু অঞ্চলে বরফ গলা শুরু হয়েছে, পানীয় জলের সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। প্রকৃতিকে অখণ্ডভাবে বিবেচনা করে মানুষের হতকারী প্রযুক্তিসমূহকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক মানবতাবাদী শক্তিগুলোকে সংঘবদ্ধ করে একটা সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
ঢাকা