২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য দূর করতে হবে :ড. ইউনূস
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৬
বিশ্বের বৃহত্তম তরুণদের সম্মেলন ‘ওয়ান ইয়ং ওয়ার্ল্ড সামিট ২০১৩’ গত ২ অক্টোবর ২০১৩ দক্ষিণ আফ্রিকার সসার সিটি, জোহানেসবার্গে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে আজ শনিবার শেষ হচ্ছে। শিক্ষা, তরুণদের বেকারত্ব ও বৈশ্বিক ব্যবসার ভূমিকার মত বিষয়গুলো নিয়ে ‘ওয়ান ইয়ং ওয়ার্ল্ড সামিট ২০১৩’ আলোচনা করছে। ২-৫ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সারা বিশ্বের ১৯০টি দেশ থেকে ১৩শ’ তরুণ প্রতিনিধি উপস্থিত হন। বাংলাদেশ থেকে দশ সদস্যের একটি তরুণ প্রতিনিধিদলও এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছে। এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল্য বক্তব্য রাখেন নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, জাতিসংঘের প্রাক্তন মহাসচিব কফি আনান ও স্যার বব গেল্ডফ। কী-নোট বক্তব্যে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের জন্য ‘২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য দূরীকরণ’ একটি নতুন লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রযুক্তিগত জ্ঞানের কারণে তিনি এই তরুণ সমপ্রদায়কে ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী জেনারেশন বলে উল্লেখ করেন।
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই প্রফেসর বলেন, যখন ২০০০ সালে কফি আনান ও জাতিসংঘ সহস্রাব্দ উন্নয়নের লক্ষ্য ঘোষণা করে, তখন মানুষ হেসে বলেছিলো এরা পাগল, তারা বিশ্বাস করেনি যে- দারিদ্রতা হ্রাস করা যায়। এমনকি তখনো না, যখন বাংলাদেশ ঘোষণা করেছিল যে, আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করেছি। এই অর্জন খুব উল্লেখযোগ্য ছিল- তলাবিহীন ঝুড়ি উপাধি পাবার কারণে’। ৮ হাজার তরুণ এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে গায়ক ও দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মী স্যার বব গেল্ডফও বক্তব্য রাখেন। বর্ণবাদ-বিরোধী ক্যাম্পেইনার আহমেদ খাত্রাদা -যিনি নেলসন ম্যান্ডেলার জীবনব্যাপী সহযোদ্ধা ছিলেন এবং তার সাথে সাড়ে ২৬ বছর কারাবাসে ছিলেন স্যার রিচার্ড ব্যান্সন, জার্মান টেনিস জনপ্রিয় খেলোয়ার বরিস বেকার এবং অন্যান্য খ্যাতিমান ব্যক্তিবর্গও এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
সম্মেলনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড জোন্স ও কেট রবার্টসন সম্মেলনের প্রতিনিধিদের পতাকাবাহী অনুষ্ঠানে স্বাগত জানান- যেখানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ওয়ান ইয়ং ওয়ার্ল্ড এর কাউন্সিলরদের প্রতীকী হিসেবে তাদের দেশের পতাকা উপহার দেন। যা এটি তুলে ধরে যে, ইতিবাচক পরিবর্তনের বিশ্ব একসাথে কাজ করতে এগিয়ে আসছে। আজ শনিবার পর্যন্ত শিক্ষা, বৈশ্বিক ব্যবসা, মানবাধিকার, নেতৃত্ব ও সরকার, টেকসই উন্নয়ন এবং তরুণদের বেকারত্ব এসব বিষয়ের উপর প্যানেল, প্লেনারী অধিবেশন ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবার পর সম্মেলনটি শেষ হবে। এই প্রথমবারের মত ‘ওয়ান ইয়ং ওয়ার্ল্ড সামিট’ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, পূর্বের সম্মেলনগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিলো লন্ডন, জুরিখ ও পিটসবার্গে। ২০১৪ এর ‘ওয়ান ইয়ং ওয়ার্ল্ড সামিট’ এর জন্য ডাবলিনকে আয়োজক শহর হিসেবে ঘোষণা করা হয়।